করাপশন নিউজ বিডি ২৪
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

হেলমেট আমদানি আবার তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে

সেপ্টেম্বরের হেলমেট আমদানি ৯১,৬৭৪ ইউনিটে, বাজারে ভারতীয় শেয়ার ৮০%

সেপ্টেম্বরের হেলমেট আমদানি ৯১,৬৭৪ ইউনিটে, বাজারে ভারতীয় শেয়ার ৮০%
হেলমেট আমদানি আবার তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে

সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে হেলমেট আমদানি আবার তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় এক লাখ ইউনিটের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত পাঁচ মাসে মাত্র ৮২ হাজার হেলমেটই প্রবেশ করলেও, মান যাচাই প্রক্রিয়ার জটিলতা কাটিয়ে এখন আমদানি স্বাভাবিক গতিতে চলছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত হেলমেটের মান যাচাই পদ্ধতি ইউরোপীয় মানে পরিবর্তন করার ফলে ভারত ও চীন থেকে আমদানি কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ফলে বেনাপোল স্থলবন্দরে সাতটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫,০০০ হেলমেট আটকে যায় এবং বেশ কয়েকজন আমদানিকারক আমদানি প্রায় বন্ধ করে দেন। তবে বিএসটিআইয়ের বিশেষ আদেশে পুনরায় ভারতীয় মানদণ্ডে পরীক্ষা চালু হওয়ায় আটকে থাকা চালানগুলো খালাস পায় এবং সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি ৯১,৬৭৪ ইউনিটে বৃদ্ধি পায়।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর এপ্রিল‑আগস্টে হেলমেট আমদানি মাত্র ৮২ হাজার ছিল, যেখানে গত বছর একই সময়ে ২.৫ লাখের বেশি হেলমেট প্রবেশ করেছিল। বাংলাদেশ হেলমেট অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ ইম্পোর্ট অ্যাসোসিয়েশন জানান, দেশে বার্ষিক মোটরসাইকেল বিক্রি ৫‑৬ লাখ ইউনিট, ফলে হেলমেটের বার্ষিক চাহিদা ৬‑৭ লাখ ইউনিটের কাছাকাছি। গত বছর মোট ৭ লাখ হেলমেট (৫ লাখ ভারতীয়, ২ লাখ চীনা) আমদানি করা হয়েছিল, যার গড় মূল্য প্রায় ১,২০০ টাকা, যা বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা।

হেলমেট বাজারের ৮০ শতাংশের বেশি ভারতীয় হেলমেট, বাকি ২০ শতাংশ চীনা হেলমেট। যশোর শহরের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (আরএন) সড়ক এই ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে ২০টিরও বেশি বিশেষায়িত হেলমেট দোকান রয়েছে। যশোরের হেলমেট পাইকারি ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করেন; তাদের মতে মোট আমদানিকৃত ভারতীয় হেলমেটের প্রায় ৬০ শতাংশই যশোরের মাধ্যমে যায়।

কোপোতাক্ষ অটো'র মালিক জহির হোসেন জানান, তাদের দোকানে বিক্রি হওয়া হেলমেটের ৭৫ শতাংশই ভারতীয়, বাকি ২৫ শতাংশ চীনা। হেলমেটের দাম ভারতীয়ের জন্য ১,৪৫০‑২,৫০০ টাকা, চীনার জন্য ৮০০‑১,৫০০ টাকা। তবে হেলমেটের মানহীন উৎপাদন ও বিক্রির উদ্বেগও রয়ে গেছে; বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন হেলমেটের ব্যবহার সাইক্লিস্টের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, তাই অবৈধ উৎপাদন তৎক্ষণাৎ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের আমদানি বৃদ্ধির ফলে যশোর ও বেনাপোলের হেলমেট ব্যবসায় স্বস্তি ফিরে এসেছে, তবে বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মান যাচাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বজায় রাখা জরুরি।

বিষয় : হেলমেট আমদানি বাংলাদেশ বিএসটিআই ভারতীয় হেলমেট যশোর হেলমেট বাজার বেনাপোল বন্দর মোটরসাইকেল নিরাপত্তা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সেপ্টেম্বরের হেলমেট আমদানি ৯১,৬৭৪ ইউনিটে, বাজারে ভারতীয় শেয়ার ৮০%
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


সেপ্টেম্বরের হেলমেট আমদানি ৯১,৬৭৪ ইউনিটে, বাজারে ভারতীয় শেয়ার ৮০%

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে হেলমেট আমদানি আবার তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় এক লাখ ইউনিটের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত পাঁচ মাসে মাত্র ৮২ হাজার হেলমেটই প্রবেশ করলেও, মান যাচাই প্রক্রিয়ার জটিলতা কাটিয়ে এখন আমদানি স্বাভাবিক গতিতে চলছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত হেলমেটের মান যাচাই পদ্ধতি ইউরোপীয় মানে পরিবর্তন করার ফলে ভারত ও চীন থেকে আমদানি কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ফলে বেনাপোল স্থলবন্দরে সাতটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫,০০০ হেলমেট আটকে যায় এবং বেশ কয়েকজন আমদানিকারক আমদানি প্রায় বন্ধ করে দেন। তবে বিএসটিআইয়ের বিশেষ আদেশে পুনরায় ভারতীয় মানদণ্ডে পরীক্ষা চালু হওয়ায় আটকে থাকা চালানগুলো খালাস পায় এবং সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি ৯১,৬৭৪ ইউনিটে বৃদ্ধি পায়।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর এপ্রিল‑আগস্টে হেলমেট আমদানি মাত্র ৮২ হাজার ছিল, যেখানে গত বছর একই সময়ে ২.৫ লাখের বেশি হেলমেট প্রবেশ করেছিল। বাংলাদেশ হেলমেট অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ ইম্পোর্ট অ্যাসোসিয়েশন জানান, দেশে বার্ষিক মোটরসাইকেল বিক্রি ৫‑৬ লাখ ইউনিট, ফলে হেলমেটের বার্ষিক চাহিদা ৬‑৭ লাখ ইউনিটের কাছাকাছি। গত বছর মোট ৭ লাখ হেলমেট (৫ লাখ ভারতীয়, ২ লাখ চীনা) আমদানি করা হয়েছিল, যার গড় মূল্য প্রায় ১,২০০ টাকা, যা বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা।

হেলমেট বাজারের ৮০ শতাংশের বেশি ভারতীয় হেলমেট, বাকি ২০ শতাংশ চীনা হেলমেট। যশোর শহরের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (আরএন) সড়ক এই ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে ২০টিরও বেশি বিশেষায়িত হেলমেট দোকান রয়েছে। যশোরের হেলমেট পাইকারি ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করেন; তাদের মতে মোট আমদানিকৃত ভারতীয় হেলমেটের প্রায় ৬০ শতাংশই যশোরের মাধ্যমে যায়।

কোপোতাক্ষ অটো'র মালিক জহির হোসেন জানান, তাদের দোকানে বিক্রি হওয়া হেলমেটের ৭৫ শতাংশই ভারতীয়, বাকি ২৫ শতাংশ চীনা। হেলমেটের দাম ভারতীয়ের জন্য ১,৪৫০‑২,৫০০ টাকা, চীনার জন্য ৮০০‑১,৫০০ টাকা। তবে হেলমেটের মানহীন উৎপাদন ও বিক্রির উদ্বেগও রয়ে গেছে; বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন হেলমেটের ব্যবহার সাইক্লিস্টের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, তাই অবৈধ উৎপাদন তৎক্ষণাৎ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের আমদানি বৃদ্ধির ফলে যশোর ও বেনাপোলের হেলমেট ব্যবসায় স্বস্তি ফিরে এসেছে, তবে বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মান যাচাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বজায় রাখা জরুরি।


করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম রোমিও, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত