করাপশন নিউজ বিডি ২৪
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশকে এলডি সি উত্তরণে ৩ বছর অতিরিক্ত সময়—২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত

বাংলাদেশকে এলডি সি উত্তরণে ৩ বছর অতিরিক্ত সময়—২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে

সরকারি গাড়িতে হর্ন বাজানো যাবে না: নতুন নির্দেশে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বাড়বে

সরকারি গাড়িতে হর্ন বাজানো যাবে না: নতুন নির্দেশে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বাড়বে

যান্ত্রিক ত্রুটি সেরে প্রধানমন্ত্রী তারেকের ফ্লাইট পাঁচ ঘণ্টা পরে ঢাকায় পৌঁছালো

যান্ত্রিক ত্রুটি সেরে প্রধানমন্ত্রী তারেকের ফ্লাইট পাঁচ ঘণ্টা পরে ঢাকায় পৌঁছালো

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শক্তিবৃদ্ধি: সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শক্তিবৃদ্ধি: সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ

চট্টগ্রাম ট্রাইব্যুনালে আলিফ হত্যার সাক্ষ্যগ্রহণে এপিপি মোহাম্মদ শরীফের জেরা

চট্টগ্রাম ট্রাইব্যুনালে আলিফ হত্যার সাক্ষ্যগ্রহণে এপিপি মোহাম্মদ শরীফের জেরা

জাপানে প্রধানমন্ত্রী ফেরার বিমান ভিভিআইপি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, উড্ডয়ন স্থগিত

জাপানে প্রধানমন্ত্রী ফেরার বিমান ভিভিআইপি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, উড্ডয়ন স্থগিত

সারা আলি খান গডফাদার না নিয়ে নিজের পথ বেছে নিলেন

সারা আলি খান গডফাদার না নিয়ে নিজের পথ বেছে নিলেন

বাংলাদেশকে এলডি সি উত্তরণে ৩ বছর অতিরিক্ত সময়—২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত

বাংলাদেশকে এলডি সি উত্তরণে ৩ বছর অতিরিক্ত সময়—২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত
বাংলাদেশকে এলডি সি উত্তরণে ৩ বছর অতিরিক্ত সময়—২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (UNGA) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে উত্তরণে অতিরিক্ত তিন বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে পূর্বে নির্ধারিত ২৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের বদলে নতুন উত্তরণ তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৯ হবে; একই সময়সীমা নেপালকেও প্রদান করা হয়েছে। উত্তরণের পূর্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ ও নেপাল সরকার অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধ করেছিল। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ক্ষমতা গ্রহণের দুই দিন পর, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দল (BNP) নেতৃত্বাধীন সরকার জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (UNDP)‑কে চিঠি লিখে সময় বাড়ানোর আবেদন জানায়। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত UNGA‑এর ৮১তম অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর এই অনুরোধকে স্বীকৃতি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতিসংঘ উল্লেখ করেছে যে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সৃষ্ট বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা বাংলাদেশকে অতিরিক্ত প্রস্তুতিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। UNDP‑এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে সময় বাড়ানোর কারণ হিসেবে গণ্য করা হয় না, তবে বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতা ও বৈশিষ্ট্যগুলোকে বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সহযোগী, এবং বাণিজ্য অংশীদারদের সমন্বয়ে একটি মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে, যার অগ্রগতি UNDP‑কে বার্ষিক প্রতিবেদন হিসেবে জানাতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মতে, জি‑৭৭ভুক্ত দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এই সময় বাড়ানোর আবেদনকে সমর্থন করেছে। সময় বাড়ার ফলে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানিতে গড়ে ১২.৫% শুল্ক আরোপের ঝুঁকি থেকে সাময়িক স্বস্তি পাবেন, এবং ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান রপ্তানি বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় থাকবে। বর্তমানে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ৩৮টি দেশ ও বাণিজ্য জোটে শুল্কমুক্ত বাজারের সুবিধা পাচ্ছেন; মোট রপ্তানির প্রায় ৭৩% এলডি সি-ভিত্তিক বিশেষ বাণিজ্য সুবিধার আওতায়। দেশটি মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক (HAQ) ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক (EVI) – এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করে এলডি সি উত্তরণে অগ্রসর হয়েছে। ২০১৮ সালের পর UNDP‑এর দুইটি ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সব তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে, এবং কোভিড‑১৯ মহামারির পর অতিরিক্ত দুই বছরের প্রস্তুতি সময়ও প্রদান করা হয়েছিল। UNDP‑এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় এলডি সি উত্তরণের জন্য মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (GNI) সীমা $1,307, যেখানে বাংলাদেশের GNI $2,684। মানবসম্পদ সূচকের ন্যূনতম মান ৫৯.৬, বাংলাদেশ ৭৭.৫; আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের সীমা ৪০.৬, বাংলাদেশ ২১.৯। সব মানদণ্ড পূরণ সত্ত্বেও উত্তরণ‑পরবর্তী সময়ে অর্জিত উন্নয়ন বজায় রাখা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা বড় পরীক্ষা হবে। বৃহত্তম এলডি সি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে, যা কয়েক দশকের উন্নয়ন অগ্রগতিকে চাপে ফেলতে পারে। UNDP‑এর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় (২০২১) বাংলাদেশকে এলডি সি তালিকা থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়, এবং ২০১৮ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যা সব তিনটি মানদণ্ড পূরণ করেছে; তবে উত্তরণ নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী দুটি ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায়ও এই অবস্থান বজায় রাখতে হবে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু GNI $1,827, মানবসম্পদ সূচক ৭৫.৩, এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক ২৭.৩ ছিল, যা উভয়ই UN‑এর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে।

বিষয় : এলডিসি বাংলাদেশ জাতিসংঘ বাণিজ্য উত্তরণ মাথাপিছু জিএনআই মানবসম্পদ সূচক

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

বাংলাদেশকে এলডি সি উত্তরণে ৩ বছর অতিরিক্ত সময়—২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশকে এলডি সি উত্তরণে ৩ বছর অতিরিক্ত সময়—২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (UNGA) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে উত্তরণে অতিরিক্ত তিন বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে পূর্বে নির্ধারিত ২৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের বদলে নতুন উত্তরণ তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৯ হবে; একই সময়সীমা নেপালকেও প্রদান করা হয়েছে। উত্তরণের পূর্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ ও নেপাল সরকার অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধ করেছিল। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ক্ষমতা গ্রহণের দুই দিন পর, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দল (BNP) নেতৃত্বাধীন সরকার জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (UNDP)‑কে চিঠি লিখে সময় বাড়ানোর আবেদন জানায়। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত UNGA‑এর ৮১তম অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর এই অনুরোধকে স্বীকৃতি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতিসংঘ উল্লেখ করেছে যে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সৃষ্ট বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা বাংলাদেশকে অতিরিক্ত প্রস্তুতিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। UNDP‑এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে সময় বাড়ানোর কারণ হিসেবে গণ্য করা হয় না, তবে বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতা ও বৈশিষ্ট্যগুলোকে বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সহযোগী, এবং বাণিজ্য অংশীদারদের সমন্বয়ে একটি মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে, যার অগ্রগতি UNDP‑কে বার্ষিক প্রতিবেদন হিসেবে জানাতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মতে, জি‑৭৭ভুক্ত দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এই সময় বাড়ানোর আবেদনকে সমর্থন করেছে। সময় বাড়ার ফলে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানিতে গড়ে ১২.৫% শুল্ক আরোপের ঝুঁকি থেকে সাময়িক স্বস্তি পাবেন, এবং ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান রপ্তানি বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় থাকবে। বর্তমানে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ৩৮টি দেশ ও বাণিজ্য জোটে শুল্কমুক্ত বাজারের সুবিধা পাচ্ছেন; মোট রপ্তানির প্রায় ৭৩% এলডি সি-ভিত্তিক বিশেষ বাণিজ্য সুবিধার আওতায়। দেশটি মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক (HAQ) ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক (EVI) – এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করে এলডি সি উত্তরণে অগ্রসর হয়েছে। ২০১৮ সালের পর UNDP‑এর দুইটি ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সব তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে, এবং কোভিড‑১৯ মহামারির পর অতিরিক্ত দুই বছরের প্রস্তুতি সময়ও প্রদান করা হয়েছিল। UNDP‑এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় এলডি সি উত্তরণের জন্য মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (GNI) সীমা $1,307, যেখানে বাংলাদেশের GNI $2,684। মানবসম্পদ সূচকের ন্যূনতম মান ৫৯.৬, বাংলাদেশ ৭৭.৫; আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের সীমা ৪০.৬, বাংলাদেশ ২১.৯। সব মানদণ্ড পূরণ সত্ত্বেও উত্তরণ‑পরবর্তী সময়ে অর্জিত উন্নয়ন বজায় রাখা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা বড় পরীক্ষা হবে। বৃহত্তম এলডি সি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে, যা কয়েক দশকের উন্নয়ন অগ্রগতিকে চাপে ফেলতে পারে। UNDP‑এর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় (২০২১) বাংলাদেশকে এলডি সি তালিকা থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়, এবং ২০১৮ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যা সব তিনটি মানদণ্ড পূরণ করেছে; তবে উত্তরণ নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী দুটি ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায়ও এই অবস্থান বজায় রাখতে হবে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু GNI $1,827, মানবসম্পদ সূচক ৭৫.৩, এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক ২৭.৩ ছিল, যা উভয়ই UN‑এর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে।

করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম রোমিও, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত