শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয়কে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা অনুমোদন করার সঙ্গে সঙ্গে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে নেমে মাঠে নির্মাণাধীন মেলার স্টল ভাঙচুর করে।
শিক্ষার্থীরা দাবি করে যে ঐ মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়‑সংলগ্ন এবং কৃষি গবেষণার জন্য অপরিহার্য। এখানে তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গবেষণা, বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালিয়ে আসছে। সচিবালয় বসলে গবেষণার জায়গা হারাবে, গবেষণার ফলাফল ও শিক্ষাদান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, মাঠটি গণপূর্তের নামে এবং শিক্ষার্থীদের দাবিকে “সঠিক নয়” বলে খণ্ডনা করেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন যে দাবি যাচাই করা হবে।
মন্ত্রিসভা ১৮ অক্টোবর মিটিংয়ে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত ১৭.৫৭ একর জায়গায় বর্তমানে ১৩টি সচিবালয় ভবন রয়েছে, যার বেশিরভাগ পুরনো এবং ভূমিকম্প‑সহনশীল নয়। নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের সমস্যার কারণে নতুন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্থাপত্য অধিদপ্তরের ধারণাগত নকশা অনুযায়ী প্রায় ৩১.৫৮ একর এলাকায় ১৪টি ১২তলা ভবন, তিনটি বেসমেন্ট, ৩,৮০০ গাড়ি পার্কিং, মসজিদ, দুইটি বহুমুখী হল, ক্যাফেটেরিয়া, ডাকঘর ইত্যাদি নির্মাণ হবে; ৩০% জায়গা সবুজায়ন ও জলাধার দিয়ে সাজানো হবে।
একই সময়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ ও ‘যুব মেলা’ চলছিল। শেকৃবি শিক্ষার্থীরা ১০০‑এর বেশি জনসংখ্যা নিয়ে স্টল ও ফটক ভাঙচুর করে প্রতিবাদ জানায়। পূর্বে তারা সরকারী দপ্তরে চিঠি চালাচালি করে মাঠের পুনরুদ্ধার দাবি করেছিল।
শিক্ষার্থীরা ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে চিঠি দিয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকার এবং হাইকোর্টে রিট আবেদন করার দাবি জানায়। তারা যুক্তি দেয় যে মাঠের পাশে সরকারি হাসপাতালও আছে; সচিবালয় বসলে হাসপাতালের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়বে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়ার পর স্থানীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ চলতে পারে, যদি না পরিকল্পনা পরিবর্তন হয়।
শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত নয়, তবে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা সরকারকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয়কে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা অনুমোদন করার সঙ্গে সঙ্গে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে নেমে মাঠে নির্মাণাধীন মেলার স্টল ভাঙচুর করে।
শিক্ষার্থীরা দাবি করে যে ঐ মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়‑সংলগ্ন এবং কৃষি গবেষণার জন্য অপরিহার্য। এখানে তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গবেষণা, বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালিয়ে আসছে। সচিবালয় বসলে গবেষণার জায়গা হারাবে, গবেষণার ফলাফল ও শিক্ষাদান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, মাঠটি গণপূর্তের নামে এবং শিক্ষার্থীদের দাবিকে “সঠিক নয়” বলে খণ্ডনা করেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন যে দাবি যাচাই করা হবে।
মন্ত্রিসভা ১৮ অক্টোবর মিটিংয়ে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত ১৭.৫৭ একর জায়গায় বর্তমানে ১৩টি সচিবালয় ভবন রয়েছে, যার বেশিরভাগ পুরনো এবং ভূমিকম্প‑সহনশীল নয়। নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের সমস্যার কারণে নতুন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্থাপত্য অধিদপ্তরের ধারণাগত নকশা অনুযায়ী প্রায় ৩১.৫৮ একর এলাকায় ১৪টি ১২তলা ভবন, তিনটি বেসমেন্ট, ৩,৮০০ গাড়ি পার্কিং, মসজিদ, দুইটি বহুমুখী হল, ক্যাফেটেরিয়া, ডাকঘর ইত্যাদি নির্মাণ হবে; ৩০% জায়গা সবুজায়ন ও জলাধার দিয়ে সাজানো হবে।
একই সময়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ ও ‘যুব মেলা’ চলছিল। শেকৃবি শিক্ষার্থীরা ১০০‑এর বেশি জনসংখ্যা নিয়ে স্টল ও ফটক ভাঙচুর করে প্রতিবাদ জানায়। পূর্বে তারা সরকারী দপ্তরে চিঠি চালাচালি করে মাঠের পুনরুদ্ধার দাবি করেছিল।
শিক্ষার্থীরা ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে চিঠি দিয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকার এবং হাইকোর্টে রিট আবেদন করার দাবি জানায়। তারা যুক্তি দেয় যে মাঠের পাশে সরকারি হাসপাতালও আছে; সচিবালয় বসলে হাসপাতালের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়বে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়ার পর স্থানীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ চলতে পারে, যদি না পরিকল্পনা পরিবর্তন হয়।
শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত নয়, তবে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা সরকারকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।

মতামত