করাপশন নিউজ বিডি ২৪
প্রকাশ : বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

চীনা বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে মিথানল জ্বালানি উৎপাদনের নতুন অনুঘটক উদ্ভাবন

চীনা বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে মিথানল জ্বালানি উৎপাদনের নতুন অনুঘটক উদ্ভাবন
চীনা বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে মিথানল জ্বালানি উৎপাদনের নতুন অনুঘটক উদ্ভাবন
চীনের হেফেই শহরে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত ডিপ স্পেস এক্সপ্লোরেশন ল্যাবরেটরি একটি নতুন অনুঘটক তৈরি করেছে, যা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান কার্বন ডাই‑অক্সাইডকে তরল জ্বালানি মিথানলে রূপান্তর করতে সক্ষম। এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে মঙ্গল‑ভিত্তিক মানব মিশনে জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জনের ভিত্তি হতে পারে। ল্যাবরেটরির প্রধান বিজ্ঞানী ঝাং ঝে এবং তার দল ‘জার্নাল অব ডিপ স্পেস এক্সপ্লোরেশন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে জানান, মিথানলকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, তাপ সরবরাহ, রোভার চালনা, অ্যান্টিফ্রিজ ও নির্মাণ সামগ্রী সহ বিভিন্ন উপযোগে ব্যবহার করা যায়। ফলে মঙ্গল‑ঘাঁটি দীর্ঘমেয়াদে পৃথিবী থেকে সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে ৯৫%‑এরও বেশি কার্বন ডাই‑অক্সাইড উপস্থিত। গবেষকরা স্পঞ্জের মতো গঠনবিশিষ্ট স্ফটিক কাঠামোর সঙ্গে তামা ও সোডিয়াম যুক্ত করে একটি হাইব্রিড অনুঘটক তৈরি করেছেন, যা CO₂‑এর সঙ্গে হাইড্রোজেনের বিক্রিয়ায় মিথানল উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র তামা ব্যবহার করলে উৎপাদিত মিথানলের তুলনায় এই অনুঘটক ১১ গুণ বেশি মিথানল উৎপন্ন করেছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত উপজাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিটি কেজি অনুঘটক প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৪৫ গ্রাম মিথানল উৎপাদন করতে সক্ষম এবং ১২ ঘণ্টা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়াম ও সিজিয়ামের তুলনায় সোডিয়াম অনুঘটকের CO₂‑আকর্ষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে ফলাফলকে উন্নত করেছে। মিথানলকে মিথেনের তুলনায় বেছে নেওয়ার কারণও স্পষ্ট: মিথেনকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়, যেখানে মিথানল স্বাভাবিক কক্ষ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে, ফলে সংরক্ষণ ও ব্যবহার সহজ। মিথানল থেকে বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন, রোভার চালনা, অ্যান্টিফ্রিজ ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরির সম্ভাবনা মঙ্গল‑মিশনের স্বনির্ভরতা বাড়াবে। এই গবেষণা নাসার ‘মক্সি’ (MOXIE) যন্ত্রের সাফল্যের সঙ্গে তুলনীয়, যা পার্সিভিয়ারেন্স রোভারকে ২০২১‑২০২৩ সালের মধ্যে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন উৎপাদনে সক্ষম করেছে। তবে নাসা ও স্পেসএক্স মূলত CO₂‑কে মিথেনে রূপান্তর করে রকেট জ্বালানি তৈরির ওপর কাজ করছে, যেখানে চীনা দল মিথানলকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে। চীনের মঙ্গল অনুসন্ধানের পটভূমি শক্তিশালী। ২০২১ সালে তিয়ানওয়েন‑১ মঙ্গলে অবতরণ করে চীন প্রথম দেশ হিসেবে চালকবিহীন ল্যান্ডার সফলভাবে চালু করেছে। ২০২৮ সালে তিয়ানওয়েন‑৩ মিশনের মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৫০০ গ্রাম মঙ্গল‑নমুনা পৃথিবীতে ফেরত আনার পরিকল্পনা রয়েছে। লিউ জি ঝং, তিয়ানওয়েন‑৩‑এর প্রধান নকশাবিদ, এই লক্ষ্যকে মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মঙ্গল‑নমুনা পুনরুদ্ধার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঝাং ঝে ও তার সহকর্মীরা স্বীকার করেন, মঙ্গল‑বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি মিথানল উৎপাদনের প্রযুক্তি এখনও গবেষণার পর্যায়ে, তবে এই প্রাথমিক ফলাফল ভবিষ্যতে মঙ্গল‑মিশনের জ্বালানি সরবরাহের কৌশলকে根本ভাবে পরিবর্তন করতে পারে।

বিষয় : মঙ্গল মিথানল অনুঘটক চীনা মহাকাশ কার্বন ডাই-অক্সাইড ইন-সিটু রিসোর্স ইউটিলাইজেশন মঙ্গল মিশন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

চীনা বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে মিথানল জ্বালানি উৎপাদনের নতুন অনুঘটক উদ্ভাবন
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


চীনা বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে মিথানল জ্বালানি উৎপাদনের নতুন অনুঘটক উদ্ভাবন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
চীনের হেফেই শহরে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত ডিপ স্পেস এক্সপ্লোরেশন ল্যাবরেটরি একটি নতুন অনুঘটক তৈরি করেছে, যা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান কার্বন ডাই‑অক্সাইডকে তরল জ্বালানি মিথানলে রূপান্তর করতে সক্ষম। এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে মঙ্গল‑ভিত্তিক মানব মিশনে জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জনের ভিত্তি হতে পারে। ল্যাবরেটরির প্রধান বিজ্ঞানী ঝাং ঝে এবং তার দল ‘জার্নাল অব ডিপ স্পেস এক্সপ্লোরেশন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে জানান, মিথানলকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, তাপ সরবরাহ, রোভার চালনা, অ্যান্টিফ্রিজ ও নির্মাণ সামগ্রী সহ বিভিন্ন উপযোগে ব্যবহার করা যায়। ফলে মঙ্গল‑ঘাঁটি দীর্ঘমেয়াদে পৃথিবী থেকে সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে ৯৫%‑এরও বেশি কার্বন ডাই‑অক্সাইড উপস্থিত। গবেষকরা স্পঞ্জের মতো গঠনবিশিষ্ট স্ফটিক কাঠামোর সঙ্গে তামা ও সোডিয়াম যুক্ত করে একটি হাইব্রিড অনুঘটক তৈরি করেছেন, যা CO₂‑এর সঙ্গে হাইড্রোজেনের বিক্রিয়ায় মিথানল উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র তামা ব্যবহার করলে উৎপাদিত মিথানলের তুলনায় এই অনুঘটক ১১ গুণ বেশি মিথানল উৎপন্ন করেছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত উপজাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিটি কেজি অনুঘটক প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৪৫ গ্রাম মিথানল উৎপাদন করতে সক্ষম এবং ১২ ঘণ্টা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়াম ও সিজিয়ামের তুলনায় সোডিয়াম অনুঘটকের CO₂‑আকর্ষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে ফলাফলকে উন্নত করেছে। মিথানলকে মিথেনের তুলনায় বেছে নেওয়ার কারণও স্পষ্ট: মিথেনকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়, যেখানে মিথানল স্বাভাবিক কক্ষ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে, ফলে সংরক্ষণ ও ব্যবহার সহজ। মিথানল থেকে বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন, রোভার চালনা, অ্যান্টিফ্রিজ ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরির সম্ভাবনা মঙ্গল‑মিশনের স্বনির্ভরতা বাড়াবে। এই গবেষণা নাসার ‘মক্সি’ (MOXIE) যন্ত্রের সাফল্যের সঙ্গে তুলনীয়, যা পার্সিভিয়ারেন্স রোভারকে ২০২১‑২০২৩ সালের মধ্যে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন উৎপাদনে সক্ষম করেছে। তবে নাসা ও স্পেসএক্স মূলত CO₂‑কে মিথেনে রূপান্তর করে রকেট জ্বালানি তৈরির ওপর কাজ করছে, যেখানে চীনা দল মিথানলকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে। চীনের মঙ্গল অনুসন্ধানের পটভূমি শক্তিশালী। ২০২১ সালে তিয়ানওয়েন‑১ মঙ্গলে অবতরণ করে চীন প্রথম দেশ হিসেবে চালকবিহীন ল্যান্ডার সফলভাবে চালু করেছে। ২০২৮ সালে তিয়ানওয়েন‑৩ মিশনের মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৫০০ গ্রাম মঙ্গল‑নমুনা পৃথিবীতে ফেরত আনার পরিকল্পনা রয়েছে। লিউ জি ঝং, তিয়ানওয়েন‑৩‑এর প্রধান নকশাবিদ, এই লক্ষ্যকে মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মঙ্গল‑নমুনা পুনরুদ্ধার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঝাং ঝে ও তার সহকর্মীরা স্বীকার করেন, মঙ্গল‑বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি মিথানল উৎপাদনের প্রযুক্তি এখনও গবেষণার পর্যায়ে, তবে এই প্রাথমিক ফলাফল ভবিষ্যতে মঙ্গল‑মিশনের জ্বালানি সরবরাহের কৌশলকে根本ভাবে পরিবর্তন করতে পারে।

করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম রোমিও, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত