করাপশন নিউজ বিডি ২৪
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েল পার্লামেন্ট নির্বাচন আজ: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে

ইসরায়েল পার্লামেন্ট নির্বাচন আজ: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে
ইসরায়েল পার্লামেন্ট নির্বাচন আজ: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে
আজ, ২৭ অক্টোবর, ইসরায়েলে জাতীয় পার্লামেন্ট (কনেসেট) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ভোটের ফল বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ২০০৯ থেকে সর্বাধিক সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী পদে আছেন, তার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করবে। ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থা পার্টি-ভিত্তিক; ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নয়, বরং পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এবং প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী কনেসেটের ১২০ আসন ভাগ করা হয়। একটি দলকে কনেসেটে প্রবেশের জন্য ন্যূনতম ৩.২৫% ভোট দরকার। প্রধান দুই জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। বামপন্থী লিকুদ দল, যা নেতানিয়াহু নেতৃত্বে, ডানপন্থি ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী শিবিরের সমর্থন পায়। এর মিত্র হিসেবে বেন-গভির (জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী) ও স্মোত্রিচ (অর্থমন্ত্রী) উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে, পাশাপাশি শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের মতো রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোও সমর্থন করে। বিরোধী শিবিরে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরাইল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটসের সমন্বয় রয়েছে। এই জোটের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ প্রধান প্রার্থীরূপে উল্লেখিত। রয়টার্সের শুক্রবারের জরিপ অনুসারে, লিকুদ ও ইয়াশার প্রত্যেকটি প্রায় ২২টি আসন, টুগেদার ১৪টি, ডেমোক্র্যাটস ও যৌথ তালিকা ৯টি, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৮টি, ইসরাইল বেইতেনু ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম ৭টি এবং রা’আম ৫টি আসন পেতে পারে। ফলে নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩ এবং বিরোধী শিবির ৫২টি আসন পেতে পারে, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় আরব-ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে আইজেনকটসহ বেশিরভাগ বিরোধী নেতা এই দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন, যা পুনরায় নির্বাচন বা তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর পুনর্নিয়ুক্তি পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। এই নির্বাচন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিরাপত্তা, স্বাধীন তদন্তের দাবি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি ইত্যাদি বিষয়গুলো ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গাজার শরণার্থী মোহাম্মদ ইলিয়ান আলজাজিরা বলেছেন, “নেতানিয়াহু হারলেও ইসরায়েলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না, তবুও আমি তার পরাজয় চাই।” সারসংক্ষেপে, আজকের ভোট ইসরায়েলের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন করে গঠন করতে পারে, তবে সমন্বয় ছাড়া স্থিতিশীল সরকার গঠন কঠিন হবে এবং ফিলিস্তিনিদের জীবনে বাস্তবিক পরিবর্তন আনতে পারে না।

বিষয় : ইসরায়েল নির্বাচন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কনেসেট লিকুদ ইয়াশার গাজা ফিলিস্তিন রাজনীতি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ইসরায়েল পার্লামেন্ট নির্বাচন আজ: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ইসরায়েল পার্লামেন্ট নির্বাচন আজ: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
আজ, ২৭ অক্টোবর, ইসরায়েলে জাতীয় পার্লামেন্ট (কনেসেট) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ভোটের ফল বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ২০০৯ থেকে সর্বাধিক সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী পদে আছেন, তার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করবে। ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থা পার্টি-ভিত্তিক; ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নয়, বরং পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এবং প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী কনেসেটের ১২০ আসন ভাগ করা হয়। একটি দলকে কনেসেটে প্রবেশের জন্য ন্যূনতম ৩.২৫% ভোট দরকার। প্রধান দুই জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। বামপন্থী লিকুদ দল, যা নেতানিয়াহু নেতৃত্বে, ডানপন্থি ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী শিবিরের সমর্থন পায়। এর মিত্র হিসেবে বেন-গভির (জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী) ও স্মোত্রিচ (অর্থমন্ত্রী) উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে, পাশাপাশি শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের মতো রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোও সমর্থন করে। বিরোধী শিবিরে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরাইল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটসের সমন্বয় রয়েছে। এই জোটের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ প্রধান প্রার্থীরূপে উল্লেখিত। রয়টার্সের শুক্রবারের জরিপ অনুসারে, লিকুদ ও ইয়াশার প্রত্যেকটি প্রায় ২২টি আসন, টুগেদার ১৪টি, ডেমোক্র্যাটস ও যৌথ তালিকা ৯টি, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৮টি, ইসরাইল বেইতেনু ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম ৭টি এবং রা’আম ৫টি আসন পেতে পারে। ফলে নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩ এবং বিরোধী শিবির ৫২টি আসন পেতে পারে, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় আরব-ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে আইজেনকটসহ বেশিরভাগ বিরোধী নেতা এই দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন, যা পুনরায় নির্বাচন বা তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর পুনর্নিয়ুক্তি পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। এই নির্বাচন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিরাপত্তা, স্বাধীন তদন্তের দাবি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি ইত্যাদি বিষয়গুলো ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গাজার শরণার্থী মোহাম্মদ ইলিয়ান আলজাজিরা বলেছেন, “নেতানিয়াহু হারলেও ইসরায়েলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না, তবুও আমি তার পরাজয় চাই।” সারসংক্ষেপে, আজকের ভোট ইসরায়েলের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন করে গঠন করতে পারে, তবে সমন্বয় ছাড়া স্থিতিশীল সরকার গঠন কঠিন হবে এবং ফিলিস্তিনিদের জীবনে বাস্তবিক পরিবর্তন আনতে পারে না।

করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম রোমিও, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত