ইসরায়েলের কনেসেট (পার্লামেন্ট) নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ জোট ও বিরোধী জোটের মধ্যে আসনের লড়াই তীব্র, ফলাফল এখনো অনিশ্চিত। সর্বশেষ বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহু জোটকে ৫২ আসন, বিরোধী জোটকে ৫০ আসন এবং আরব লিস্টকে ১৯ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বিবিসি দুটি সমান ফলাফল প্রকাশ করেছে, যেখানে লিকুদ ও বিরোধী জোট প্রত্যেকটি ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত। তবে চ্যানেল 12-র সাম্প্রতিক সংশোধিত জরিপে নেতানিয়াহুর জোটকে ৫২, বিরোধী জোটকে ৫০ আসন দেখানো হয়েছে। আল জাজিরা একই জরিপে বিরোধী জোটকে ৪৯ আসন, আরব লিস্টকে ১৯ আসন বলে জানিয়েছে। বিবিসি আরও উল্লেখ করেছে যে আরব দলগুলো ১৭ বা তার বেশি আসন জেতে পারে, যা তাদের সর্বোচ্চ ঐতিহাসিক ফলাফলের কাছাকাছি। বর্তমানে কনেসেটের ১২০টি আসনের জন্য কোনো জোটই একা ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি, ফলে সরকার গঠনের জন্য জোটবদ্ধ আলোচনা অপরিহার্য। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি মধ্যরাত থেকে ভোট গণনা শুরু করেছে; ভোর ৪টা পর্যন্ত প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে। পুরো গণনা সম্পন্ন হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বিরোধী জোটের নেতৃত্বে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নতুন 'ইয়াশার' দল রয়েছে, যা 'চেঞ্জ ব্লক' নামে পরিচিত এবং নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। সরকার গঠনের জন্য সপ্তাহ বা মাসব্যাপী দরকষাকষি হতে পারে, যেখানে একাধিক সম্ভাব্য সংযোজনের পথ খোলা রয়েছে। ইতিহাস দেখায় ইসরায়েলের কোনো একক দল কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি; সবসময় জোটবদ্ধ সরকার গঠন হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস-নিয়ন্ত্রিত হামলার পর এই নির্বাচন প্রথম আইনসভা নির্বাচন হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।