চট্টগ্রাম বন্দরেই ৩১৮টি বিপজ্জনক কনটেইনার জমা—বিস্ফোরণ ঝুঁকি এড়াতে সরকারী পদক্ষেপ
চট্টগ্রাম বন্দরেই ৩১৮টি বিপজ্জনক কনটেইনার জমা—বিস্ফোরণ ঝুঁকি এড়াতে সরকারী পদক্ষেপ
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৩১৮টি বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্যবাহী কনটেইনার বছরের পর বছর ধরে শেড ও ইয়ার্ডে জমে রয়েছে, যা বিস্ফোরণ ও দাহ্য পদার্থের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা আজকের প্রতিবেদনে জানানো হল।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিষ্পত্তির জন্য এই কনটেইনারগুলো কাস্টমস বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কাগজপত্র এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এখনও সব কনটেইনারই বন্দরভিতরে রয়ে গেছে। কাস্টমসকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে কনটেইনার সরানোর অনুরোধ করা হয়েছে, এবং আন্তঃমন্ত্রণালয়ীয় বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর কন্টেইনার অপসারণের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
বৈশ্বিকভাবে ২০২০ সালে লেবাননের বৈরুত বন্দরে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিশাল বিস্ফোরণে দুইশো অধিক মানুষ প্রাণ হারায়, যা সমুদ্রবন্দরে বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। চট্টগ্রাম বন্দরেও পূর্বে অনুরূপ ঘটনার ঝুঁকি দেখা গেছে; ২০১৫ সালে রাসায়নিক বিস্ফোরণে চারজন শ্রমিক আহত হন, ২০২২ সালে ব্যাটারিবাহী কনটেইনারে আগুন লেগে যায়, এবং একই বছরে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে হাইড্রোজেন পার‑অক্সাইডবাহী কনটেইনারে বিস্ফোরণে ৫০ জনের মৃত্যু হয়।
বন্দর থেকে বিভিন্ন শিল্পখাতের জন্য আমদানি করা হয় দাহ্য ও বিস্ফোরক পদার্থসহ নানা ধরনের রাসায়নিক পণ্য। আইনি ও কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা এই পণ্যের কনটেইনারগুলোকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শেডে আটকে রাখার প্রধান কারণ। স্থান সংকটের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনারগুলো বন্দরভিতরের মূল্যবান জায়গা দখল করে রাখায় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রাক্তন পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ উল্লেখ করেন, "চট্টগ্রাম বন্দরে স্থান স্বভাবতই সীমিত, আর এই ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনারগুলো অতিরিক্ত চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সঠিকভাবে অপসারণ না হলে যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।"
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কাস্টমস পর্যায়ক্রমে নিলাম ও ধ্বংসের কাজ পরিচালনা করবে। কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয়ীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে কনটেইনার অপসারণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া চালু করা হবে এবং প্রযোজ্য নীতিমালা মেনে কাজটি সম্পন্ন করা হবে।
বিপজ্জনক কনটেইনারের নিরাপদ নিষ্পত্তি চট্টগ্রাম বন্দরকে পুনরায় কার্যকর ও ঝুঁকিমুক্ত করার মূল চাবিকাঠি। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে বন্দর কার্যক্রমে ব্যাঘাত ও জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা দ্রুত সমন্বয় করে কাজটি শেষ করা অপরিহার্য।
চট্টগ্রাম বন্দরেই ৩১৮টি বিপজ্জনক কনটেইনার জমা—বিস্ফোরণ ঝুঁকি এড়াতে সরকারী পদক্ষেপ
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৩১৮টি বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্যবাহী কনটেইনার বছরের পর বছর ধরে শেড ও ইয়ার্ডে জমে রয়েছে, যা বিস্ফোরণ ও দাহ্য পদার্থের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা আজকের প্রতিবেদনে জানানো হল।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিষ্পত্তির জন্য এই কনটেইনারগুলো কাস্টমস বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কাগজপত্র এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এখনও সব কনটেইনারই বন্দরভিতরে রয়ে গেছে। কাস্টমসকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে কনটেইনার সরানোর অনুরোধ করা হয়েছে, এবং আন্তঃমন্ত্রণালয়ীয় বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর কন্টেইনার অপসারণের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
বৈশ্বিকভাবে ২০২০ সালে লেবাননের বৈরুত বন্দরে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিশাল বিস্ফোরণে দুইশো অধিক মানুষ প্রাণ হারায়, যা সমুদ্রবন্দরে বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। চট্টগ্রাম বন্দরেও পূর্বে অনুরূপ ঘটনার ঝুঁকি দেখা গেছে; ২০১৫ সালে রাসায়নিক বিস্ফোরণে চারজন শ্রমিক আহত হন, ২০২২ সালে ব্যাটারিবাহী কনটেইনারে আগুন লেগে যায়, এবং একই বছরে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে হাইড্রোজেন পার‑অক্সাইডবাহী কনটেইনারে বিস্ফোরণে ৫০ জনের মৃত্যু হয়।
বন্দর থেকে বিভিন্ন শিল্পখাতের জন্য আমদানি করা হয় দাহ্য ও বিস্ফোরক পদার্থসহ নানা ধরনের রাসায়নিক পণ্য। আইনি ও কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা এই পণ্যের কনটেইনারগুলোকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শেডে আটকে রাখার প্রধান কারণ। স্থান সংকটের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনারগুলো বন্দরভিতরের মূল্যবান জায়গা দখল করে রাখায় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রাক্তন পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ উল্লেখ করেন, "চট্টগ্রাম বন্দরে স্থান স্বভাবতই সীমিত, আর এই ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনারগুলো অতিরিক্ত চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সঠিকভাবে অপসারণ না হলে যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।"
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কাস্টমস পর্যায়ক্রমে নিলাম ও ধ্বংসের কাজ পরিচালনা করবে। কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয়ীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে কনটেইনার অপসারণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া চালু করা হবে এবং প্রযোজ্য নীতিমালা মেনে কাজটি সম্পন্ন করা হবে।
বিপজ্জনক কনটেইনারের নিরাপদ নিষ্পত্তি চট্টগ্রাম বন্দরকে পুনরায় কার্যকর ও ঝুঁকিমুক্ত করার মূল চাবিকাঠি। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে বন্দর কার্যক্রমে ব্যাঘাত ও জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা দ্রুত সমন্বয় করে কাজটি শেষ করা অপরিহার্য।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম রোমিও, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বাড়ি নং ৭৬৩, রোড নং ১, পশ্চিম নাখালপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
মতামত