করাপশন নিউজ বিডি ২৪

স্বর্ণের গয়না কেনার আগে ক্যারেট ও হলমার্ক যাচাই করুন

স্বর্ণের গয়না কেনার আগে ক্যারেট ও হলমার্ক যাচাই করুন
স্বর্ণের গয়না কেনার আগে ক্যারেট ও হলমার্ক যাচাই করুন
স্বর্ণের দাম এখনও আকাশছোঁয়া, তবে সাম্প্রতিক দুই দিনের মধ্যে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরির দাম ৩,৩২৪ টাকা কমে ২,২০,৮৫৮ টাকায় নেমে এসেছে। দাম হ্রাসের পরেও গয়না কেনা সাধারণ ক্রেতার জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়ে গেছে; তাই যে গয়না কেনা হবে, সেটি কতটা খাঁটি তা যাচাই করা অতীব জরুরি। স্বর্ণের বিশুদ্ধতা মাপার প্রচলিত একক হল ক্যারেট। সম্পূর্ণ খাঁটি স্বর্ণ ২৪ ক্যারেট, তবে গয়না তৈরির জন্য এতে রুপা, তামা বা অন্যান্য ধাতু মেশানো হয়। বাংলাদেশে সাধারণত ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের গয়না বিক্রি হয়; আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ২২ ক্যারেটে ৯১.৬% শুদ্ধতা (৯১৬ চিহ্ন), ২১ ক্যারেটে ৮৭.৫% (৮৭৫ চিহ্ন) এবং ১৮ ক্যারেটে ৭৫% (৭৫০ চিহ্ন) থাকে। অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের গয়না কিনলেও প্রায় ৮.৪% অন্য ধাতু থাকে, আর ১৮ ক্যারেটের গয়নায় এক‑চতুর্থাংশ অন্য ধাতু থাকে। ক্যারেটের সংখ্যা কম মানে স্বর্ণের মান খারাপ, এমন ধারণা ভুল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম জানান, “যেকোনো ক্যারেটের সোনার গয়না কেনা সম্ভব; বিদেশে ৯ ক্যারেটের গয়না পর্যন্ত তৈরি হয়।” তবে গয়না কেনার সময় হলমার্কের উপস্থিতি, ক্যাশমেমোতে ক্যারেট ও দাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কিনা, এবং বিক্রেতা বাজুসের অনুমোদিত সদস্য প্রতিষ্ঠান কি না, তা নিশ্চিত করা উচিত। হলমার্ক হল স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার সরকারি স্বীকৃত চিহ্ন। বাংলাদেশে বাংলা গোল্ড ও ঢাকা গোল্ড দুইটি বেসরকারি সংস্থা লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে হলমার্ক প্রদান করে এবং সংশ্লিষ্ট সনদ সংরক্ষণ করে। কিছু ব্যবসায়ী টোনস মেশিনের মাধ্যমে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করেন, তবে ক্রেতা ফলাফল ও পদ্ধতির স্বচ্ছতা যাচাই করতে হবে। ক্যাশমেমো ছাড়া স্বর্ণের গয়না কেনা ঝুঁকিপূর্ণ। ক্যাশমেমোতে গয়নার ওজন, ক্যারেট, স্বর্ণের দাম, মজুরি এবং অন্যান্য খরচ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে; হলমার্ক বা সনদও সংরক্ষণ করা উচিত। পুরোনো গয়না বিক্রি বা বদলে নতুন গয়না কেনার ক্ষেত্রে ক্যাশমেমো ও সনদ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে ১৮% ও ১২% বাদের হার নির্ধারণে। দামের প্রলোভনে কম ক্যারেটের গয়না ও ব্রোঞ্জ‑সোণার মিশ্রণও বাজারে বেড়ে চলেছে। বাজুস ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ব্রোঞ্জের স্বর্ণের চুড়ি ও বালা বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে এবং ক্রেতাদের এসব পণ্য না কেনার পরামর্শ দিয়েছে। অনলাইনেও কম দামের গয়না বিক্রির প্রচার দেখা যায়; তাই বিক্রেতার পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি এবং পণ্যের বিশদ যাচাই না করে অর্ডার করা থেকে বিরত থাকা দরকার। স্বর্ণের দাম ১৯৭১ সালে প্রায় ১৭০ টাকা থেকে আজ ২২ ক্যারেটের দাম ২,২০,৮৫৮ টাকায় পৌঁছেছে, এবং সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহে মোট ১০,৪৩৯ টাকা হ্রাস পেয়েছে। বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান দোলন উল্লেখ করেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে দাম নির্ধারিত হয়।” সারসংক্ষেপে, স্বর্ণের গয়না কেনার সময় ক্যারেটের মান, হলমার্ক, ক্যাশমেমো এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা অপরিহার্য। চকচকে দেখলে স্বর্ণ খাঁটি হয় না; গয়নার গায়ে লেখা মানের সঙ্গে প্রকৃত বিশুদ্ধতার মিলই মূল সূচক। প্রশ্ন করুন, যাচাই করুন এবং সব নথি সংরক্ষণ করুন— এটাই প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করার সঠিক পদ্ধতি।

বিষয় : স্বর্ণ গয়না ক্যারেট হলমার্ক স্বর্ণের দাম জুয়েলারি বাজুস ক্যাশমেমো

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

স্বর্ণের গয়না কেনার আগে ক্যারেট ও হলমার্ক যাচাই করুন
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


স্বর্ণের গয়না কেনার আগে ক্যারেট ও হলমার্ক যাচাই করুন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
স্বর্ণের দাম এখনও আকাশছোঁয়া, তবে সাম্প্রতিক দুই দিনের মধ্যে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরির দাম ৩,৩২৪ টাকা কমে ২,২০,৮৫৮ টাকায় নেমে এসেছে। দাম হ্রাসের পরেও গয়না কেনা সাধারণ ক্রেতার জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়ে গেছে; তাই যে গয়না কেনা হবে, সেটি কতটা খাঁটি তা যাচাই করা অতীব জরুরি। স্বর্ণের বিশুদ্ধতা মাপার প্রচলিত একক হল ক্যারেট। সম্পূর্ণ খাঁটি স্বর্ণ ২৪ ক্যারেট, তবে গয়না তৈরির জন্য এতে রুপা, তামা বা অন্যান্য ধাতু মেশানো হয়। বাংলাদেশে সাধারণত ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের গয়না বিক্রি হয়; আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ২২ ক্যারেটে ৯১.৬% শুদ্ধতা (৯১৬ চিহ্ন), ২১ ক্যারেটে ৮৭.৫% (৮৭৫ চিহ্ন) এবং ১৮ ক্যারেটে ৭৫% (৭৫০ চিহ্ন) থাকে। অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের গয়না কিনলেও প্রায় ৮.৪% অন্য ধাতু থাকে, আর ১৮ ক্যারেটের গয়নায় এক‑চতুর্থাংশ অন্য ধাতু থাকে। ক্যারেটের সংখ্যা কম মানে স্বর্ণের মান খারাপ, এমন ধারণা ভুল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম জানান, “যেকোনো ক্যারেটের সোনার গয়না কেনা সম্ভব; বিদেশে ৯ ক্যারেটের গয়না পর্যন্ত তৈরি হয়।” তবে গয়না কেনার সময় হলমার্কের উপস্থিতি, ক্যাশমেমোতে ক্যারেট ও দাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কিনা, এবং বিক্রেতা বাজুসের অনুমোদিত সদস্য প্রতিষ্ঠান কি না, তা নিশ্চিত করা উচিত। হলমার্ক হল স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার সরকারি স্বীকৃত চিহ্ন। বাংলাদেশে বাংলা গোল্ড ও ঢাকা গোল্ড দুইটি বেসরকারি সংস্থা লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে হলমার্ক প্রদান করে এবং সংশ্লিষ্ট সনদ সংরক্ষণ করে। কিছু ব্যবসায়ী টোনস মেশিনের মাধ্যমে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করেন, তবে ক্রেতা ফলাফল ও পদ্ধতির স্বচ্ছতা যাচাই করতে হবে। ক্যাশমেমো ছাড়া স্বর্ণের গয়না কেনা ঝুঁকিপূর্ণ। ক্যাশমেমোতে গয়নার ওজন, ক্যারেট, স্বর্ণের দাম, মজুরি এবং অন্যান্য খরচ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে; হলমার্ক বা সনদও সংরক্ষণ করা উচিত। পুরোনো গয়না বিক্রি বা বদলে নতুন গয়না কেনার ক্ষেত্রে ক্যাশমেমো ও সনদ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে ১৮% ও ১২% বাদের হার নির্ধারণে। দামের প্রলোভনে কম ক্যারেটের গয়না ও ব্রোঞ্জ‑সোণার মিশ্রণও বাজারে বেড়ে চলেছে। বাজুস ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ব্রোঞ্জের স্বর্ণের চুড়ি ও বালা বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে এবং ক্রেতাদের এসব পণ্য না কেনার পরামর্শ দিয়েছে। অনলাইনেও কম দামের গয়না বিক্রির প্রচার দেখা যায়; তাই বিক্রেতার পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি এবং পণ্যের বিশদ যাচাই না করে অর্ডার করা থেকে বিরত থাকা দরকার। স্বর্ণের দাম ১৯৭১ সালে প্রায় ১৭০ টাকা থেকে আজ ২২ ক্যারেটের দাম ২,২০,৮৫৮ টাকায় পৌঁছেছে, এবং সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহে মোট ১০,৪৩৯ টাকা হ্রাস পেয়েছে। বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান দোলন উল্লেখ করেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে দাম নির্ধারিত হয়।” সারসংক্ষেপে, স্বর্ণের গয়না কেনার সময় ক্যারেটের মান, হলমার্ক, ক্যাশমেমো এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা অপরিহার্য। চকচকে দেখলে স্বর্ণ খাঁটি হয় না; গয়নার গায়ে লেখা মানের সঙ্গে প্রকৃত বিশুদ্ধতার মিলই মূল সূচক। প্রশ্ন করুন, যাচাই করুন এবং সব নথি সংরক্ষণ করুন— এটাই প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করার সঠিক পদ্ধতি।

করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম রোমিও, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত