রোহিঙ্গা সমাধানের চাবি মিয়ানমারে: টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেকের নতুন ঘোষণা","মিয়ানমার‑ই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ: জাপান‑ইসিসি‑ওআইসি ত্রিপাক্ষিক সমর্থন","রোহিঙ্গা সংকটের দশক‑পর্যায়ের বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কৌশল
রোহিঙ্গা সমাধানের চাবি মিয়ানমারে: টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেকের নতুন ঘোষণা","মিয়ানমার‑ই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ: জাপান‑ইসিসি‑ওআইসি ত্রিপাক্ষিক সমর্থন","রোহিঙ্গা সংকটের দশক‑পর্যায়ের বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কৌশল
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যে বর্মী সামরিক জান্তা ও মগ গোষ্ঠীর পরিকল্পিত গণহত্যা, নিধনযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগের পর লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। দশকেরও বেশি সময়ে জান্তা বাহিনী ও স্থানীয় আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন চালিয়ে এসেছে, যা দক্ষিণ‑পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি দুইটি আন্তর্জাতিক আপডেট রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে নতুন দিকনির্দেশনা দিল। প্রথমটি ছিল টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তারেকের স্পষ্ট ঘোষণা: "রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই রয়েছে" এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান। দ্বিতীয়টি ছিল হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজি) গাম্বিয়া কর্তৃক মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা গণহত্যা মামলায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এর পূর্ণ সমর্থন। এই দু'টি বার্তা—বাংলাদেশের বাস্তবমুখী কূটনৈতিক অবস্থান এবং আইসিজি‑তে ওআইসির জোরালো সমর্থন—একসাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ তৈরির সুযোগ উন্মোচন করেছে।
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশ; অষ্টম শতাব্দী থেকে আরাকান রাজ্যের স্বর্ণযুগ (১৪৩০‑১৭৮৪) ও ১৯৪৮ সালে স্বাধীন মিয়ানমারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী উ নু‑এর সময় পর্যন্ত তারা নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত ছিল। তবে সামরিক জান্তার নাগরিকত্ব আইন ও ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের মাধ্যমে তাদের রাষ্ট্রহীন করে বাংলাদেশে বাধ্য করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৮‑এর "অপারেশন ড্রাগন কিং" ও ১৯৯১‑৯২‑এর খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক প্রতিরক্ষার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার সফল উদাহরণ রয়েছে। টোকিও সফরে তারেক রহমান এই ঐতিহাসিক অর্জনগুলো স্মরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিপরীতভাবে, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও মানবিক ত্রাণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে কোনো শর্তবিহীন গ্যারান্টি ছাড়াই ১২ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গার জন্য সীমান্ত খোলা হয়, যা দক্ষিণ‑পূর্বাঞ্চলে জনতাত্ত্বিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকটের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর "সমাধান মিয়ানমারেই" ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক ত্রাণের ওপর নির্ভরতা ত্যাগ করে মূল সমস্যার শিকড়ে আঘাত করার বাস্তবমুখী কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত। আইসিজিতে গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলায় ওআইসির সমর্থন আইনি ফান্ড গঠন ও মামলার গতি বাড়াতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে; যদি আইসিজি জান্তা সরকারের ওপর বাধ্যতামূলক আইনি ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তবে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও নাগরিকত্ব গ্যারান্টি দিতে বাধ্য করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি ২০১৭ সালের চেয়ে ভিন্ন; সামরিক জান্তা বাহিনী ব্যাকফুটে গিয়ে আরাকান আর্মি (এএ) প্রায় ৮০% এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশকে কেবল জান্তা সরকারের ওপর নয়, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) এর সঙ্গে ট্র্যাক‑২ ডিপ্লোমেসি শুরু করতে হবে। তবে আরাকান আর্মির মাদক ব্যবসা, ইয়াবা‑আইসের সঙ্গে চোরাচালান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃগোষ্ঠী সদস্যদের নিয়োগের ঝুঁকি সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে; তাই কঠোর সামরিক নজরদারি ও শূন্য সহনশীলতা বজায় রেখে কূটনৈতিক দরকষাকষি চালিয়ে রোহিঙ্গাদের ভূমি অধিকার পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে হবে।
উখিয়া‑টেকনাফের ৮,০০০ একর বনাঞ্চল ধ্বংস, ভূগর্ভস্থ পানির হ্রাস এবং বার্ষিক ১০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় বাংলাদেশের জন্য অনির্দিষ্টকাল ধরে বহনযোগ্য নয়। জাপানসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে, নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অবিলম্বে গ্রহণ করা জরুরি:
১. প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ নিয়ে "বিশেষ রোহিঙ্গা কমিশন" গঠন, যা আন্তর্জাতিক ও সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।
২. রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনৈতিক দল‑মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য সনদ প্রণয়ন, যাতে সরকার পরিবর্তন হলেও প্রত্যাবাসন নীতি অটুট থাকে।
৩. ওআইসি ও আসিয়ান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আইসিজি‑তে সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর সময়‑সীমাবদ্ধ বাধ্যতামূলক প্রত্যাবাসন রোডম্যাপের আন্তর্জাতিক দাবি তোলা।
৪. মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণসহ "সেফ জোন" স্থাপন, যাতে রোহিঙ্গারা নিজ ভূমির কাছাকাছি নিরাপদে পুনর্বাসিত হতে পারে।
আইসিজিতে ওআইসির সমর্থন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিস্তেজতা ভাঙে, আর টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় বার্তা বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থানের মূল দিক নির্দেশ করে। শেষমেশ, রোহিঙ্গা সংকটের চাবি কোনো ত্রাণশিবিরে নয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ভূখণ্ডে নিহিত; ১৯৭৮ ও ১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক দৃঢ়তার উদাহরণ অনুসরণ করে অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও আক্রমণাত্মক আন্তর্জাতিক কূটনীতি সমন্বয় করলে বাংলাদেশ টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে পারবে।
রোহিঙ্গা সমাধানের চাবি মিয়ানমারে: টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেকের নতুন ঘোষণা","মিয়ানমার‑ই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ: জাপান‑ইসিসি‑ওআইসি ত্রিপাক্ষিক সমর্থন","রোহিঙ্গা সংকটের দশক‑পর্যায়ের বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কৌশল
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যে বর্মী সামরিক জান্তা ও মগ গোষ্ঠীর পরিকল্পিত গণহত্যা, নিধনযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগের পর লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। দশকেরও বেশি সময়ে জান্তা বাহিনী ও স্থানীয় আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন চালিয়ে এসেছে, যা দক্ষিণ‑পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি দুইটি আন্তর্জাতিক আপডেট রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে নতুন দিকনির্দেশনা দিল। প্রথমটি ছিল টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তারেকের স্পষ্ট ঘোষণা: "রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই রয়েছে" এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান। দ্বিতীয়টি ছিল হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজি) গাম্বিয়া কর্তৃক মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা গণহত্যা মামলায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এর পূর্ণ সমর্থন। এই দু'টি বার্তা—বাংলাদেশের বাস্তবমুখী কূটনৈতিক অবস্থান এবং আইসিজি‑তে ওআইসির জোরালো সমর্থন—একসাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ তৈরির সুযোগ উন্মোচন করেছে।
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশ; অষ্টম শতাব্দী থেকে আরাকান রাজ্যের স্বর্ণযুগ (১৪৩০‑১৭৮৪) ও ১৯৪৮ সালে স্বাধীন মিয়ানমারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী উ নু‑এর সময় পর্যন্ত তারা নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত ছিল। তবে সামরিক জান্তার নাগরিকত্ব আইন ও ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের মাধ্যমে তাদের রাষ্ট্রহীন করে বাংলাদেশে বাধ্য করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৮‑এর "অপারেশন ড্রাগন কিং" ও ১৯৯১‑৯২‑এর খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক প্রতিরক্ষার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার সফল উদাহরণ রয়েছে। টোকিও সফরে তারেক রহমান এই ঐতিহাসিক অর্জনগুলো স্মরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিপরীতভাবে, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও মানবিক ত্রাণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে কোনো শর্তবিহীন গ্যারান্টি ছাড়াই ১২ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গার জন্য সীমান্ত খোলা হয়, যা দক্ষিণ‑পূর্বাঞ্চলে জনতাত্ত্বিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকটের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর "সমাধান মিয়ানমারেই" ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক ত্রাণের ওপর নির্ভরতা ত্যাগ করে মূল সমস্যার শিকড়ে আঘাত করার বাস্তবমুখী কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত। আইসিজিতে গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলায় ওআইসির সমর্থন আইনি ফান্ড গঠন ও মামলার গতি বাড়াতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে; যদি আইসিজি জান্তা সরকারের ওপর বাধ্যতামূলক আইনি ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তবে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও নাগরিকত্ব গ্যারান্টি দিতে বাধ্য করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি ২০১৭ সালের চেয়ে ভিন্ন; সামরিক জান্তা বাহিনী ব্যাকফুটে গিয়ে আরাকান আর্মি (এএ) প্রায় ৮০% এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশকে কেবল জান্তা সরকারের ওপর নয়, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) এর সঙ্গে ট্র্যাক‑২ ডিপ্লোমেসি শুরু করতে হবে। তবে আরাকান আর্মির মাদক ব্যবসা, ইয়াবা‑আইসের সঙ্গে চোরাচালান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃগোষ্ঠী সদস্যদের নিয়োগের ঝুঁকি সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে; তাই কঠোর সামরিক নজরদারি ও শূন্য সহনশীলতা বজায় রেখে কূটনৈতিক দরকষাকষি চালিয়ে রোহিঙ্গাদের ভূমি অধিকার পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে হবে।
উখিয়া‑টেকনাফের ৮,০০০ একর বনাঞ্চল ধ্বংস, ভূগর্ভস্থ পানির হ্রাস এবং বার্ষিক ১০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় বাংলাদেশের জন্য অনির্দিষ্টকাল ধরে বহনযোগ্য নয়। জাপানসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে, নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অবিলম্বে গ্রহণ করা জরুরি:
১. প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ নিয়ে "বিশেষ রোহিঙ্গা কমিশন" গঠন, যা আন্তর্জাতিক ও সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।
২. রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনৈতিক দল‑মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য সনদ প্রণয়ন, যাতে সরকার পরিবর্তন হলেও প্রত্যাবাসন নীতি অটুট থাকে।
৩. ওআইসি ও আসিয়ান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আইসিজি‑তে সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর সময়‑সীমাবদ্ধ বাধ্যতামূলক প্রত্যাবাসন রোডম্যাপের আন্তর্জাতিক দাবি তোলা।
৪. মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণসহ "সেফ জোন" স্থাপন, যাতে রোহিঙ্গারা নিজ ভূমির কাছাকাছি নিরাপদে পুনর্বাসিত হতে পারে।
আইসিজিতে ওআইসির সমর্থন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিস্তেজতা ভাঙে, আর টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় বার্তা বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থানের মূল দিক নির্দেশ করে। শেষমেশ, রোহিঙ্গা সংকটের চাবি কোনো ত্রাণশিবিরে নয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ভূখণ্ডে নিহিত; ১৯৭৮ ও ১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক দৃঢ়তার উদাহরণ অনুসরণ করে অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও আক্রমণাত্মক আন্তর্জাতিক কূটনীতি সমন্বয় করলে বাংলাদেশ টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে পারবে।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বাড়ি নং ৭৬৩, রোড নং ১, পশ্চিম নাখালপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
মতামত