বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সংকোচন: ডি-সভেরেনাইজেশনের উন্মোচিত বাস্তবতা
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ধীরে ধীরে সংকোচন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নীতির মাধ্যমে ঘটছে, যা দেশের স্বায়ত্তশাসন ও জাতীয় গর্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।
ইংরেজিতে ‘ডি-সভেরেনাইজেশন’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়া স্বেচ্ছায় অথবা জবরদস্তি মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্বায়ত্তশাসনকে সীমিত করে। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সংস্থা, ইইউ ইত্যাদি কাঠামো ইতিমধ্যেই বহু দেশকে আংশিকভাবে এই মডেলে নিয়ে এসেছে, তবে বাংলাদেশে এই প্রবণতা মিশ্র পদ্ধতিতে প্রকাশ পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু ঘটনা এই প্রবণতার স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা দেশের বাণিজ্য নীতি পরিবর্তনের সূচনা করেছিল এবং কিছু সামাজিক গোষ্ঠী তা সমর্থন করলেও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিল। একই সময়ে সৌদি আরবের তথ্য প্রকাশ না করেই দুইজন বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা এবং বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকেরা এতে শিক্ষণীয় দৃষ্টিকোণ খুঁজে পাওয়া—এগুলোও ডি-সভেরেনাইজেশনের ইঙ্গিত বহন করে।
অতীতের কিছু ঘটনা আরও স্পষ্ট চিত্র দেয়। ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের দ্বারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব, ইপিজেড (EPZ) শিল্পে শ্রম আইনের উপরে বিশেষ সুবিধা প্রদান, এবং পিরোজপুরের মানিক পশারীর বেলায় গার্ড অব অনার প্রদান—এগুলো সবই রাষ্ট্রের সম্পদ ও নীতি গোপনীয়তা বজায় রাখার মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসনের হ্রাসকে নির্দেশ করে।
কৌশলগত সম্পদ লিজ, ভাড়া বা বেসরকারীকরণের চুক্তিগুলোও জনসমক্ষে প্রকাশ না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্বভৌমত্বের সংকোচনকে বাড়িয়ে দেয়। যখন রাষ্ট্রের ক্ষমতা অভ্যন্তরীণভাবে সীমিত হয়, তখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের স্বার্থ প্রকাশের সুযোগও কমে যায়। এই দুই দিকের সমন্বয় নাগরিকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের হ্রাস, নৈতিক কর্তৃত্বের ক্ষয় এবং শেষ পর্যন্ত নৈরাজ্যিক মনোভাবের উত্থান ঘটাতে পারে।
জাতীয়তাবাদী জনমনের মধ্যে সার্বভৌমত্বের প্রতি আবেগ তীব্র হলেও, ধারাবাহিকভাবে সীমিত চুক্তি ও নীতির মাধ্যমে তা ধীরে ধীরে ‘জোয়াল’ পরানো হচ্ছে। ফলস্বরূপ, দেশের গৌরব ও স্বায়ত্তশাসনের ধারণা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে, যা সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্তভূমি দখল বা বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হলে জাতীয় গর্ব তীব্রভাবে জাগে, তবে নীতিগত সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা না থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ডি-সভেরেনাইজেশন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃশ্যপটে গভীর পরিবর্তন আনছে। স্বচ্ছতা, জনসচেতনতা এবং স্বায়ত্তশাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া এই প্রবণতা দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে হুমকির মুখে ফেলবে।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম রোমিও, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মতামত