করাপশন নিউজ বিডি ২৪
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বছরের শুরুর দিনই পাঠ্যবই পৌঁছাবে? এনসিটিবি’র নতুন পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ

বছরের শুরুর দিনই পাঠ্যবই পৌঁছাবে? এনসিটিবি’র নতুন পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
বছরের শুরুর দিনই পাঠ্যবই পৌঁছাবে? এনসিটিবি’র নতুন পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিখনঘাটতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতে অগ্রসর হচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতি এই সমস্যার মূল কারণ হলেও, সময়মতো পাঠ্যবই না পৌঁছানোও বড় ভূমিকা রাখে। গত দুই শিক্ষাবর্ষে সময়মতো বই ছাপা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়েছে, আর নতুন শিক্ষাবর্ষেও একই পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি না হওয়া জরুরি। নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাক‑প্রাথমিক থেকে নবম‑দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি বই মুদ্রণ করা হবে। প্রাথমিক স্তরে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক; ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৮৬% এর বেশি বই ছাপা হয়েছে এবং ৭৪% বই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে মাধ্যমিক স্তরে পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বই ছাপা হলেও সরবরাহ মাত্র ৪০% এবং নবম‑দশম শ্রেণির জন্য মাত্র ৩% বইই বিতরণ করা হয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে এবং জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা সব বই পাবে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা দেখায়, শতভাগ বই সরবরাহ করতে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় লেগেছিল, আর পূর্বের বছরেও তিন মাসের বেশি দেরি হয়েছিল। বইবিহীন শিক্ষাবছরের শুরুর ফলে শিক্ষার্থীর শিক্ষার ক্ষতি কার দায়িত্ব হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। অন্যদিকে, চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য চারটি নতুন বই—‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘খেলাধুলা’, ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’—এর অনুমোদন মাত্র ২৫ অক্টোবরই হয়েছে। শিক্ষাবছরের শুরুর মাত্র দুই মাস আগে এই অনুমোদন ও কার্যাদেশের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া পরিকল্পনার ঘাটতি প্রকাশ করে, এবং বছরের শেষের দিকে বই অনুমোদন করা কতটা যৌক্তিক, তা প্রশ্নবিদ্ধ করে। বইয়ের বিষয়বস্তু পরিবর্তন সম্পর্কেও উদ্বেগ রয়েছে। ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণাসহ কয়েকটি বিষয়ের ব্যাখ্যা পরিবর্তন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাবের বদলে গবেষণা, ঐতিহাসিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে বিষয়বস্তু সংশোধন করা উচিত। পাশাপাশি, সংশোধন কাজ যথাসময়ে শেষ করতে হবে, যাতে মুদ্রণ ও সরবরাহের সময়সীমা প্রভাবিত না হয়। শেষ মুহূর্তে বিষয়বস্তু বদলালে ভুলের ঝুঁকি বাড়ে এবং মুদ্রণকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। গুণগত মানের দিক থেকেও সতর্কতা প্রয়োজন। অতীতে নিম্নমানের কাগজ, ঝাপসা ছাপা ও দুর্বল বাঁধাইয়ের অভিযোগ উঠে এসেছে। এই বছরের পুনরাবৃত্তি রোধে কাগজ, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের মান বজায় রাখতে হবে। এনসিটিবি ও মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়মতো অগ্রগতি তদারকি করতে হবে এবং কোনো সমস্যার উদ্ভব হলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় শিখনঘাটতি কমাতে এবং শিক্ষার্থীর শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বছরের শুরুর দিনই পাঠ্যবই পৌঁছানো একমাত্র কার্যকর সমাধান। এই লক্ষ্য অর্জনে এনসিটিবি’র ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই।

বিষয় : শিক্ষা পাঠ্যবই এনসিটিবি শিখনঘাটতি শিক্ষাবছর বই সরবরাহ শিক্ষার্থী শিক্ষা নীতি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

বছরের শুরুর দিনই পাঠ্যবই পৌঁছাবে? এনসিটিবি’র নতুন পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


বছরের শুরুর দিনই পাঠ্যবই পৌঁছাবে? এনসিটিবি’র নতুন পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিখনঘাটতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতে অগ্রসর হচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতি এই সমস্যার মূল কারণ হলেও, সময়মতো পাঠ্যবই না পৌঁছানোও বড় ভূমিকা রাখে। গত দুই শিক্ষাবর্ষে সময়মতো বই ছাপা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়েছে, আর নতুন শিক্ষাবর্ষেও একই পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি না হওয়া জরুরি। নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাক‑প্রাথমিক থেকে নবম‑দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি বই মুদ্রণ করা হবে। প্রাথমিক স্তরে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক; ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৮৬% এর বেশি বই ছাপা হয়েছে এবং ৭৪% বই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে মাধ্যমিক স্তরে পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বই ছাপা হলেও সরবরাহ মাত্র ৪০% এবং নবম‑দশম শ্রেণির জন্য মাত্র ৩% বইই বিতরণ করা হয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে এবং জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা সব বই পাবে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা দেখায়, শতভাগ বই সরবরাহ করতে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় লেগেছিল, আর পূর্বের বছরেও তিন মাসের বেশি দেরি হয়েছিল। বইবিহীন শিক্ষাবছরের শুরুর ফলে শিক্ষার্থীর শিক্ষার ক্ষতি কার দায়িত্ব হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। অন্যদিকে, চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য চারটি নতুন বই—‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘খেলাধুলা’, ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’—এর অনুমোদন মাত্র ২৫ অক্টোবরই হয়েছে। শিক্ষাবছরের শুরুর মাত্র দুই মাস আগে এই অনুমোদন ও কার্যাদেশের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া পরিকল্পনার ঘাটতি প্রকাশ করে, এবং বছরের শেষের দিকে বই অনুমোদন করা কতটা যৌক্তিক, তা প্রশ্নবিদ্ধ করে। বইয়ের বিষয়বস্তু পরিবর্তন সম্পর্কেও উদ্বেগ রয়েছে। ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণাসহ কয়েকটি বিষয়ের ব্যাখ্যা পরিবর্তন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাবের বদলে গবেষণা, ঐতিহাসিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে বিষয়বস্তু সংশোধন করা উচিত। পাশাপাশি, সংশোধন কাজ যথাসময়ে শেষ করতে হবে, যাতে মুদ্রণ ও সরবরাহের সময়সীমা প্রভাবিত না হয়। শেষ মুহূর্তে বিষয়বস্তু বদলালে ভুলের ঝুঁকি বাড়ে এবং মুদ্রণকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। গুণগত মানের দিক থেকেও সতর্কতা প্রয়োজন। অতীতে নিম্নমানের কাগজ, ঝাপসা ছাপা ও দুর্বল বাঁধাইয়ের অভিযোগ উঠে এসেছে। এই বছরের পুনরাবৃত্তি রোধে কাগজ, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের মান বজায় রাখতে হবে। এনসিটিবি ও মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়মতো অগ্রগতি তদারকি করতে হবে এবং কোনো সমস্যার উদ্ভব হলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় শিখনঘাটতি কমাতে এবং শিক্ষার্থীর শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বছরের শুরুর দিনই পাঠ্যবই পৌঁছানো একমাত্র কার্যকর সমাধান। এই লক্ষ্য অর্জনে এনসিটিবি’র ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই।

করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম রোমিও, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত