করাপশন নিউজ বিডি ২৪

প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি

করেরহাটে ৮৭ লাখের জাল ভাউচার স্ক্যান্ডাল: ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদক দায়ের

করেরহাটে ৮৭ লাখের জাল ভাউচার স্ক্যান্ডাল: ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদক দায়ের
প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের উন্নয়ন প্রকল্পে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান ও সহ-সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

মামলাটি ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম-২ দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন দায়ের করেন; বিষয়টি উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন নিশ্চিত করেন।

আসামিদের তালিকায় করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন নয়ন, মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার, তাহেরা বেগম, এবং সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলী অন্তর্ভুক্ত।

দুদকের অনুসন্ধানে ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের আওতায় গৃহীত ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্র ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় অধিকাংশ ভাউচার জাল। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারি তহবিল আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ভাউচারে উল্লেখিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকদ্বয় দুদক অনুসন্ধানকারীদের জানিয়েছেন যে সেখানে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর তাদের নয়। তদুপরি, প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে অন্য সদস্যদের স্বাক্ষরও জাল বলে প্রাথমিকভাবে ধরা পড়েছে।

১ শতাংশ করের অর্থে নেওয়া এই ৫৫টি প্রকল্পের তদারকি ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। তাদের পারস্পরিক যোগসাজশেই এই তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে প্রকল্পের নির্দেশনা ও নীতিমালা লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং জাল ভাউচার তৈরি ও ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের সময় ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে; তিনি জানান চেয়ারম্যানের চাপে দোকান থেকে সংগ্রহ করা খালি ভাউচার তিনি পূরণ করেছিলেন।

মামলাটি এখন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনসহ নথিভুক্ত হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। এই ঘটনা সরকারি তহবিলের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি মোকাবিলার গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে।

বিষয় : করেরহাট দুর্নীতি দমন কমিশন মিরসরাই জাল ভাউচার ১ শতাংশ কর ইউনিয়ন পরিষদ চট্টগ্রাম দুর্নীতি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

করেরহাটে ৮৭ লাখের জাল ভাউচার স্ক্যান্ডাল: ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদক দায়ের
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


করেরহাটে ৮৭ লাখের জাল ভাউচার স্ক্যান্ডাল: ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদক দায়ের

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের উন্নয়ন প্রকল্পে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান ও সহ-সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

মামলাটি ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম-২ দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন দায়ের করেন; বিষয়টি উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন নিশ্চিত করেন।

আসামিদের তালিকায় করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন নয়ন, মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার, তাহেরা বেগম, এবং সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলী অন্তর্ভুক্ত।

দুদকের অনুসন্ধানে ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের আওতায় গৃহীত ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্র ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় অধিকাংশ ভাউচার জাল। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারি তহবিল আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ভাউচারে উল্লেখিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকদ্বয় দুদক অনুসন্ধানকারীদের জানিয়েছেন যে সেখানে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর তাদের নয়। তদুপরি, প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে অন্য সদস্যদের স্বাক্ষরও জাল বলে প্রাথমিকভাবে ধরা পড়েছে।

১ শতাংশ করের অর্থে নেওয়া এই ৫৫টি প্রকল্পের তদারকি ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। তাদের পারস্পরিক যোগসাজশেই এই তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে প্রকল্পের নির্দেশনা ও নীতিমালা লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং জাল ভাউচার তৈরি ও ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের সময় ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে; তিনি জানান চেয়ারম্যানের চাপে দোকান থেকে সংগ্রহ করা খালি ভাউচার তিনি পূরণ করেছিলেন।

মামলাটি এখন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনসহ নথিভুক্ত হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। এই ঘটনা সরকারি তহবিলের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি মোকাবিলার গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে।


করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম রোমিও, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত