করাপশন নিউজ বিডি ২৪

ইলিশ নিষেধাজ্ঞা ভোগ করা জেলেদের সহায়তা দেরি, জীবিকা সংকটে উদ্বেগের সঙ্কেত

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ইলিশ সংরক্ষণের জন্য ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও, জেলেদের জন্য প্রতিশ্রুত চাল সহায়তা এখনও পৌঁছায়নি। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার ১৫ দিন পার হওয়ার পরও ২৫ কেজি চালের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি, ফলে জীবিকার সংকটে জেলেদের মুখে উদ্বেগের ছায়া। নিষেধাজ্ঞার সময়কালীন ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সংখ্যা ৮,৩৩২, তবে শুধুমাত্র ৪,০০০ জনই চাল সহায়তা পাবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে কার্ডধারী অধিকাংশ জেলে, এমনকি প্রকৃত জেলে কার্ড না থাকা লোকজনেরও সহায়তা থেকে বাদ পড়ে। সহায়তার সীমিত পরিধি ও বিতরণে বিলম্বের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। দৈনন্দিন মাছ ধরা জীবিকার মূলধারার জেলেদের জন্য তিন সপ্তাহের আয়হীনতা সহ্য করা সহজ নয়। চালের পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষার খরচ ও অন্যান্য গৃহস্থালীর ব্যয়ও মেটাতে হয়। ২৫ কেজি চালের পরিমাণ এই মৌলিক চাহিদা পূরণে অল্পই, তবু এই সামান্য সহায়তাই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেরিতে পৌঁছালে পরিবারগুলোকে ধার নিতে হয় বা খাবার কমিয়ে চলতে হয়, যা সহায়তার উদ্দেশ্যকে ক্ষুণ্ণ করে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চাল গুদামে পৌঁছেছে, তবে দুর্গাপূজার ছুটির কারণে বিতরণ করা যায়নি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সময়সূচি ও সরকারি ছুটির তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল, তাই বিতরণে প্রস্তুতি না নেওয়া প্রশ্নবিদ্ধ। জরুরি জীবিকা সহায়তা ছুটির কারণে আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। গুদামে চাল থাকা এবং ক্ষুধার্ত পরিবারে পৌঁছানো এক নয়। সহায়তাবঞ্চিত জেলেদের কঠিন অবস্থার মধ্যেই সন্দ্বীপের কিছু ঘাটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও অভিযানে ২৩টি অপারেশনের ২১টিতে কোনো ধরা পড়েনি, তবু নজরদারি ও সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জেলেদের তালিকা দ্রুত হালনাগাদ করে কার্ড ও সহায়তা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। অবিলম্বে চালের বরাদ্দ ও বিতরণ নিশ্চিত করে বঞ্চিত জেলেদের ত্বরিত সহায়তা প্রদান করা জরুরি। ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই সহায়তা পৌঁছাতে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ ও জেলেদের জীবিকা সুরক্ষা একসঙ্গে এগিয়ে যায়।

ইলিশ নিষেধাজ্ঞা ভোগ করা জেলেদের সহায়তা দেরি, জীবিকা সংকটে উদ্বেগের সঙ্কেত