করাপশন নিউজ বিডি ২৪
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

দুদক রেলওয়ে‑সিটি কর্পোরেশন‑সীমান্ত ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯৬ লাখ টাকার আত্মসাতের মামলা

দুদক রেলওয়ে‑সিটি কর্পোরেশন‑সীমান্ত ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯৬ লাখ টাকার আত্মসাতের মামলা

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা অস্থায়ীভাবে বন্ধ, সাইবার আক্রমণ সন্দেহে সতর্কতা

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা অস্থায়ীভাবে বন্ধ, সাইবার আক্রমণ সন্দেহে সতর্কতা

কর বিভাগে দুর্নীতি! শ্যামল কৃষ্ণ দাসের ৫ বছরের সাজা, অবৈধ সম্পদ জব্দ

কর বিভাগে দুর্নীতি! শ্যামল কৃষ্ণ দাসের ৫ বছরের সাজা, অবৈধ সম্পদ জব্দ

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: ঢাকা‑টোকিও সম্পর্ককে গড়ে তুলতে নতুন পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: ঢাকা‑টোকিও সম্পর্ককে গড়ে তুলতে নতুন পদক্ষেপ

নেতানিয়াহু জোট ৫২, বিরোধী জোট ৫০: ইসরায়েল কনেসেট নির্বাচনে তীব্র লড়াই

নেতানিয়াহু জোট ৫২, বিরোধী জোট ৫০: ইসরায়েল কনেসেট নির্বাচনে তীব্র লড়াই

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ১০ম স্থলবাহিনী সংলাপ: সামরিক প্রশিক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়বে

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ১০ম স্থলবাহিনী সংলাপ: সামরিক প্রশিক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়বে

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, মুশফিকুর অনুপস্থিতি শক

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, মুশফিকুর অনুপস্থিতি শক

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের তৃতীয় দিন: শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের তৃতীয় দিন: শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

দুদক রেলওয়ে‑সিটি কর্পোরেশন‑সীমান্ত ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯৬ লাখ টাকার আত্মসাতের মামলা

দুদক রেলওয়ে‑সিটি কর্পোরেশন‑সীমান্ত ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯৬ লাখ টাকার আত্মসাতের মামলা
১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯৬ লাখ টাকার আত্মসাতের মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম‑২ জেলার অধিদপ্তর থেকে রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং সীমান্ত ব্যাংকের ১৪জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।

মামলাটি সোমবার, ২৬ অক্টোবর, দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হিসেবে দাখিল করেন এবং তিনি নিজে ঢাকা পোস্টকে মামলার বিষয় নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্তদের ওপর আনা হয়েছে যে, তারা ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে মেসার্স দি কসমোপলিটন কর্পোরেশনের নামে জাল বিল তৈরি করে, সেই বিলের বিপরীতে চেক ইস্যু করে সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করেছে। ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই কার্যক্রমে মোট ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

আসামিদের তালিকায় রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মোহাম্মদ হাবিবুল্লা খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, জুনিয়র অডিটর খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের, অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান, সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া ও তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার।

দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩-এ মেসার্স দি কসমোপলিটন কর্পোরেশনের নামে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করা হয়। একই দিনে রেলওয়ের আইবাস++ সিস্টেমে টোকেন ও বিল এন্ট্রি করা হয়, যেখানে সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিতের পরিচিতি ও হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেনের অনুমোদন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রেলওয়ের স্টোরস শাখার রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথিতে কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

বিলের বিপরীতে ৩১ ডিসেম্বর ১১৩৯০৮৫ নম্বরের চেক ইস্যু করা হয়, যা অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমানের মাধ্যমে সোহাগ আলী নামের ব্যক্তির হাতে পৌঁছায়। চেকটি ১ জানুয়ারি ২০২৪-এ সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার মেসার্স দি কসমোপলিটন কর্পোরেশনের এসএনডি হিসাবের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তারিখে মোট ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।

দুদক জানিয়েছে যে, ট্রেড লাইসেন্সের আবেদনপত্রে কোহিনুর আক্তার নামে জমা দেওয়া ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির মধ্যে মিল নেই; প্রকৃত পরিচয়পত্রের মালিক এক শ্রমিক যিনি কোনো ব্যাংক হিসাব রাখেন না এবং সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে কখনো গিয়েছেন না। তবুও সিটি কর্পোরেশনের তিনজন কর্মকর্তা এই অসঙ্গতি যাচাই না করে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে সীমান্ত ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তা দ্বারা যাচাই ছাড়াই এসএনডি হিসাব খোলার সুযোগ দেয়।

দুদক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ধারা ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯, পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে। এ মামলাটি চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার ও জালিয়াতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিষয় : রেলওয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সীমান্ত ব্যাংক জাল বিল আত্মসাত ট্রেড লাইসেন্স দুর্নীতি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দুদক রেলওয়ে‑সিটি কর্পোরেশন‑সীমান্ত ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯৬ লাখ টাকার আত্মসাতের মামলা
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


দুদক রেলওয়ে‑সিটি কর্পোরেশন‑সীমান্ত ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯৬ লাখ টাকার আত্মসাতের মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম‑২ জেলার অধিদপ্তর থেকে রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং সীমান্ত ব্যাংকের ১৪জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।

মামলাটি সোমবার, ২৬ অক্টোবর, দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হিসেবে দাখিল করেন এবং তিনি নিজে ঢাকা পোস্টকে মামলার বিষয় নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্তদের ওপর আনা হয়েছে যে, তারা ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে মেসার্স দি কসমোপলিটন কর্পোরেশনের নামে জাল বিল তৈরি করে, সেই বিলের বিপরীতে চেক ইস্যু করে সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করেছে। ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই কার্যক্রমে মোট ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

আসামিদের তালিকায় রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মোহাম্মদ হাবিবুল্লা খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, জুনিয়র অডিটর খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের, অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান, সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া ও তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার।

দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩-এ মেসার্স দি কসমোপলিটন কর্পোরেশনের নামে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করা হয়। একই দিনে রেলওয়ের আইবাস++ সিস্টেমে টোকেন ও বিল এন্ট্রি করা হয়, যেখানে সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিতের পরিচিতি ও হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেনের অনুমোদন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রেলওয়ের স্টোরস শাখার রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথিতে কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

বিলের বিপরীতে ৩১ ডিসেম্বর ১১৩৯০৮৫ নম্বরের চেক ইস্যু করা হয়, যা অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমানের মাধ্যমে সোহাগ আলী নামের ব্যক্তির হাতে পৌঁছায়। চেকটি ১ জানুয়ারি ২০২৪-এ সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার মেসার্স দি কসমোপলিটন কর্পোরেশনের এসএনডি হিসাবের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তারিখে মোট ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।

দুদক জানিয়েছে যে, ট্রেড লাইসেন্সের আবেদনপত্রে কোহিনুর আক্তার নামে জমা দেওয়া ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির মধ্যে মিল নেই; প্রকৃত পরিচয়পত্রের মালিক এক শ্রমিক যিনি কোনো ব্যাংক হিসাব রাখেন না এবং সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে কখনো গিয়েছেন না। তবুও সিটি কর্পোরেশনের তিনজন কর্মকর্তা এই অসঙ্গতি যাচাই না করে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে সীমান্ত ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তা দ্বারা যাচাই ছাড়াই এসএনডি হিসাব খোলার সুযোগ দেয়।

দুদক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ধারা ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯, পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে। এ মামলাটি চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার ও জালিয়াতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম রোমিও, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত