দুদক রেলওয়ে‑সিটি কর্পোরেশন‑সীমান্ত ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯৬ লাখ টাকার আত্মসাতের মামলা
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম‑২ জেলার অধিদপ্তর থেকে রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং সীমান্ত ব্যাংকের ১৪জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।মামলাটি সোমবার, ২৬ অক্টোবর, দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হিসেবে দাখিল করেন এবং তিনি নিজে ঢাকা পোস্টকে মামলার বিষয় নিশ্চিত করেন।অভিযুক্তদের ওপর আনা হয়েছে যে, তারা ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে মেসার্স দি কসমোপলিটন কর্পোরেশনের নামে জাল বিল তৈরি করে, সেই বিলের বিপরীতে চেক ইস্যু করে সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করেছে। ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই কার্যক্রমে মোট ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।আসামিদের তালিকায় রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মোহাম্মদ হাবিবুল্লা খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, জুনিয়র অডিটর খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের, অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান, সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া ও তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার।দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩-এ মেসার্স দি কসমোপলিটন কর্পোরেশনের নামে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করা হয়। একই দিনে রেলওয়ের আইবাস++ সিস্টেমে টোকেন ও বিল এন্ট্রি করা হয়, যেখানে সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিতের পরিচিতি ও হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেনের অনুমোদন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রেলওয়ের স্টোরস শাখার রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথিতে কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।বিলের বিপরীতে ৩১ ডিসেম্বর ১১৩৯০৮৫ নম্বরের চেক ইস্যু করা হয়, যা অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমানের মাধ্যমে সোহাগ আলী নামের ব্যক্তির হাতে পৌঁছায়। চেকটি ১ জানুয়ারি ২০২৪-এ সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার মেসার্স দি কসমোপলিটন কর্পোরেশনের এসএনডি হিসাবের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তারিখে মোট ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।দুদক জানিয়েছে যে, ট্রেড লাইসেন্সের আবেদনপত্রে কোহিনুর আক্তার নামে জমা দেওয়া ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির মধ্যে মিল নেই; প্রকৃত পরিচয়পত্রের মালিক এক শ্রমিক যিনি কোনো ব্যাংক হিসাব রাখেন না এবং সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে কখনো গিয়েছেন না। তবুও সিটি কর্পোরেশনের তিনজন কর্মকর্তা এই অসঙ্গতি যাচাই না করে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে সীমান্ত ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তা দ্বারা যাচাই ছাড়াই এসএনডি হিসাব খোলার সুযোগ দেয়।দুদক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ধারা ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯, পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে। এ মামলাটি চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার ও জালিয়াতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।