<
করাপশন নিউজ বিডি ২৪
প্রকাশ : শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

মাছধরার ঝুঁকি ও রেস্টুরাঁর সাফল্য: নূর আলম ও আদমের দুই ভিন্ন পথ

মাছধরার ঝুঁকি ও রেস্টুরাঁর সাফল্য: নূর আলম ও আদমের দুই ভিন্ন পথ

শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা নিবেদন

শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা নিবেদন

সারা দেশে শুষ্ক আবহাওয়া, কিছু অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

সারা দেশে শুষ্ক আবহাওয়া, কিছু অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

ক্ষুধা হ্রাসে অগ্রগতি, নিরাপদ খাবার এখন চ্যালেঞ্জের মুখে

ক্ষুধা হ্রাসে অগ্রগতি, নিরাপদ খাবার এখন চ্যালেঞ্জের মুখে

মেডিকেল সহায়তা নিলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিলের ঝুঁকি: দূতাবাসের সতর্কবার্তা

মেডিকেল সহায়তা নিলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিলের ঝুঁকি: দূতাবাসের সতর্কবার্তা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমানের উপস্থিতি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমানের উপস্থিতি

বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিশাল শোভাযাত্রা

বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিশাল শোভাযাত্রা

ভূমি প্রতিমন্ত্রী হেলাল উদ্দিনের আদেশে অগ্রাধিকারভিত্তিক সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা

ভূমি প্রতিমন্ত্রী হেলাল উদ্দিনের আদেশে অগ্রাধিকারভিত্তিক সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা

মাছধরার ঝুঁকি ও রেস্টুরাঁর সাফল্য: নূর আলম ও আদমের দুই ভিন্ন পথ

মাছধরার ঝুঁকি ও রেস্টুরাঁর সাফল্য: নূর আলম ও আদমের দুই ভিন্ন পথ
মাছধরার ঝুঁকি ও রেস্টুরাঁর সাফল্য: নূর আলম ও আদমের দুই ভিন্ন পথ
চিলমারী নদীর বাজারে নূর আলমের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয়, আর কুড়িগ্রামের ঐশী রেস্তোরাঁয় কাজ করা আদমের গল্প শোনা যায়। দুজনেই একই জেলার হলেও তাদের জীবনের গতি, আয় ও সঞ্চয়ের পরিমাণে বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। ৪০ বছর বয়সী নূর আলম কুড়িগ্রাম জেলার রমনা ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রাম থেকে আসেন। প্রায় দুই দশক আগে তিনি প্রথম চাচার সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে আসামের জোড়হাটে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তখন পাসপোর্ট‑ভিসার কঠোরতা কম ছিল, তাই গ্রামবাসী অনেকেই আসামে মাছ ধরতে যেতেন। জোড়হাটে জলমহালের মালিক একজন থাকায় জেলেদের ভাগে বেশি মাছ পড়ে; বিক্রির ৪০ শতাংশ মালিকের, বাকি ৬০ শতাংশ জেলেদের। মাছের মৌসুমে নূর আলম দলবদ্ধ হয়ে এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করলেও, তার সন্তান জন্ম থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসায় ১৪-১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কোনো জমি, বাড়ি না থাকায় বড় ভাইয়ের সাড়ে তিনশত কাটা জমিতে একটি বাড়ি তুলতে হয়েছে। এখন তিনি বেকার, মাঝে মাঝে বালুর ট্রলারে কাজ করেন। অন্যদিকে, ৩৬ বছর বয়সী আদম রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০২ সালে ১১ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে রঙপুর, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট ও গাইবান্ধা ঘুরে কাজের সন্ধান করেন। শেষমেশ কুড়িগ্রামের ঐশী রেস্তোরাঁয় বাবুর্চি হিসেবে নিয়োগ পান, যেখানে দৈনিক দেড় হাজার টাকা মজুরি পান; মাসিক আয় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা, এবং বিয়ের রান্নার কাজ থেকে অতিরিক্ত ২০‑২৫ হাজার টাকা উপার্জন করেন। তার সঞ্চয় দিয়ে তিনি কুড়িগ্রামে দু'টি, নারায়ণগঞ্জে একটি, সুন্দরগঞ্জে একটি মোট চারটি দোকান খুলেছেন। বর্তমানে তার কাছে প্রায় ৬০ কাটা জমি রয়েছে, যার মধ্যে ৫১ কাটা ধানের জমি। দুই সাক্ষাৎকারের মূল পার্থক্য হলো সঞ্চয়ের ক্ষমতা। নূর আলমের আয় যদিও মৌসুমে উচ্চ, তবে বড় চিকিৎসা খরচ ও সম্পদের অভাবে তার সঞ্চয় শূন্য। অন্যদিকে, আদমের নিয়মিত বেতন ও অতিরিক্ত কাজের আয় তাকে সম্পদ সঞ্চয়ের সুযোগ দিয়েছে। এই দু'জনের গল্প দেশের শ্রমিক শ্রেণীর আয়-ব্যয় ভারসাম্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও সঞ্চয় ব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচন করে। যদি আয়ের পরিমাণের চেয়ে তা ধরে রাখার সক্ষমতা না থাকে, তবে মাথাপিছু আয় বা জিডিপি বৃদ্ধির তত্ত্বই শূন্য গ্লাসের মতো শোনাবে। নূর আলম ও আদমের উদাহরণ আমাদেরকে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও সঞ্চয় নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।

বিষয় : নূর আলম আদম কুড়িগ্রাম মাছধরা রেস্টুরাঁ কর্মসংস্থান সঞ্চয় দারিদ্র্য

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

মাছধরার ঝুঁকি ও রেস্টুরাঁর সাফল্য: নূর আলম ও আদমের দুই ভিন্ন পথ
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


মাছধরার ঝুঁকি ও রেস্টুরাঁর সাফল্য: নূর আলম ও আদমের দুই ভিন্ন পথ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
চিলমারী নদীর বাজারে নূর আলমের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয়, আর কুড়িগ্রামের ঐশী রেস্তোরাঁয় কাজ করা আদমের গল্প শোনা যায়। দুজনেই একই জেলার হলেও তাদের জীবনের গতি, আয় ও সঞ্চয়ের পরিমাণে বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। ৪০ বছর বয়সী নূর আলম কুড়িগ্রাম জেলার রমনা ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রাম থেকে আসেন। প্রায় দুই দশক আগে তিনি প্রথম চাচার সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে আসামের জোড়হাটে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তখন পাসপোর্ট‑ভিসার কঠোরতা কম ছিল, তাই গ্রামবাসী অনেকেই আসামে মাছ ধরতে যেতেন। জোড়হাটে জলমহালের মালিক একজন থাকায় জেলেদের ভাগে বেশি মাছ পড়ে; বিক্রির ৪০ শতাংশ মালিকের, বাকি ৬০ শতাংশ জেলেদের। মাছের মৌসুমে নূর আলম দলবদ্ধ হয়ে এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করলেও, তার সন্তান জন্ম থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসায় ১৪-১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কোনো জমি, বাড়ি না থাকায় বড় ভাইয়ের সাড়ে তিনশত কাটা জমিতে একটি বাড়ি তুলতে হয়েছে। এখন তিনি বেকার, মাঝে মাঝে বালুর ট্রলারে কাজ করেন। অন্যদিকে, ৩৬ বছর বয়সী আদম রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০২ সালে ১১ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে রঙপুর, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট ও গাইবান্ধা ঘুরে কাজের সন্ধান করেন। শেষমেশ কুড়িগ্রামের ঐশী রেস্তোরাঁয় বাবুর্চি হিসেবে নিয়োগ পান, যেখানে দৈনিক দেড় হাজার টাকা মজুরি পান; মাসিক আয় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা, এবং বিয়ের রান্নার কাজ থেকে অতিরিক্ত ২০‑২৫ হাজার টাকা উপার্জন করেন। তার সঞ্চয় দিয়ে তিনি কুড়িগ্রামে দু'টি, নারায়ণগঞ্জে একটি, সুন্দরগঞ্জে একটি মোট চারটি দোকান খুলেছেন। বর্তমানে তার কাছে প্রায় ৬০ কাটা জমি রয়েছে, যার মধ্যে ৫১ কাটা ধানের জমি। দুই সাক্ষাৎকারের মূল পার্থক্য হলো সঞ্চয়ের ক্ষমতা। নূর আলমের আয় যদিও মৌসুমে উচ্চ, তবে বড় চিকিৎসা খরচ ও সম্পদের অভাবে তার সঞ্চয় শূন্য। অন্যদিকে, আদমের নিয়মিত বেতন ও অতিরিক্ত কাজের আয় তাকে সম্পদ সঞ্চয়ের সুযোগ দিয়েছে। এই দু'জনের গল্প দেশের শ্রমিক শ্রেণীর আয়-ব্যয় ভারসাম্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও সঞ্চয় ব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচন করে। যদি আয়ের পরিমাণের চেয়ে তা ধরে রাখার সক্ষমতা না থাকে, তবে মাথাপিছু আয় বা জিডিপি বৃদ্ধির তত্ত্বই শূন্য গ্লাসের মতো শোনাবে। নূর আলম ও আদমের উদাহরণ আমাদেরকে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও সঞ্চয় নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।

করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


যোগাযোগ : 09697716045