<
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

তাবেইদের জীবনযাপন: নবীজির পরের প্রজন্মের আদর্শ

তাবেইদের জীবনযাপন: নবীজির পরের প্রজন্মের আদর্শ
তাবেইদের জীবনযাপন: নবীজির পরের প্রজন্মের আদর্শ
তাবেইরা, নবী মুহাম্মদ (সা.)র সরাসরি সান্নিধ্য না পেলে‑ও সাহাবিদের জীবনদর্শনকে আত্মস্থ করে, ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য যুগ গড়ে তুলেছেন। নবীজির হাদিস ও সুন্নত সংগ্রহের অদম্য তাগিদে তারা মরুভূমি পার হয়ে, মদিনা, মক্কা, কুফা, বসরা ও সিরিয়ার সাহাবিদের ঘরে ঘরে ঘুরে হাদিসের জ্ঞানভান্ডার গড়ে তোলেন। মদিনার তাবেই সাইদ ইবনুল মুসাইয়িব (রহ.) একবার বলেন, “একটি হাদিস সংগ্রহের জন্য আমি দিনরাত অবিরাম সফর করেছি।” তার এই অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং নিখুঁত স্মৃতিশক্তি আজকের ইসলামী জ্ঞানের ভিত্তি হয়ে আছে। ইস্লামিক সাম্রাজ্য রোম থেকে পারস্য পর্যন্ত বিস্তৃত থাকলেও তাবেইরা জাগতিক সম্পদ থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। তারা সরল খাবার খান, সাদামাটা পোশাক পরেন এবং সম্পদ গরিবদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তাবেই হাসান বসরি (রহ.) বর্ণনা করেন, “বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ৭০ জন সাহাবির সাক্ষাৎ পেয়েছি; যদি তোমরা তাঁদের দেখো, তবে তাঁদের পাগল ভাববে; আর যদি তাঁরা তোমাদের দুনিয়াপ্রীতি দেখতেন, তবে বলতেন—এদের পরকালে কোনো অংশ নেই।” রাতের নামাজে তারা আল্লাহর সামনে কান্নাকাটি করে, দিনব্যাপী কর্মব্যস্ত থাকলেও রাতের একান্ত সন্ন্যাসে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পান। উরওয়া ইবনে জুবায়ের (রহ.) অসুস্থ হয়ে পা কেটে ফেলতে না চাওয়া পর্যন্ত, “আমি যখন নামাজে দাঁড়াব, তখন তোমরা আমার পা কেটে ফেলো, আমি টেরো পাব না”—এই দৃঢ়তা তাবেইদের ইবাদতের মূর্ত প্রতীক। তাবেইদের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল হালাল রিজিকের অনুসরণ। তারা ব্যবসা-ব্যাপারেও সততার উদাহরণ স্থাপন করে, সন্দেহের মুহূর্তে বড়ো ব্যবসা ত্যাগ করত। উদাহরণস্বরূপ তাবেই মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহ.) ৪০ হাজার দিরহামের তেল ক্রয় করে, তেল পাত্রে ইঁদুরের দাগ দেখলে পুরো তেল মাটিতে ফেলে দেন, ফলে আর্থিক ক্ষতি হলেও নীতি থেকে বিচ্যুত হননি। তাবেইদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিনয়ও তাদের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবিদের পিতার মতো সম্মান করা হতো, মতবিরোধে শিষ্টাচার কখনো লঙ্ঘন করা হতো না। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবদুর রহমান আওজায়ি (রহ.)র মধ্যে ফিকহি মতভেদ থাকলেও তারা একে অপরের প্রতি গভীর সম্মান বজায় রেখেছেন। এইসব গুণাবলি আজকের মুসলিম সমাজকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সম্পদ ও ক্ষমতার শীর্ষে বসে থেকেও হৃদয়কে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত রাখা সম্ভব। তাবেইদের নীতি, সততা ও জ্ঞানই ইসলামের সোনালী ঐতিহ্য গড়ে তুলেছে, যা আজও আমাদের পথপ্রদর্শক।

বিষয় : তাবেই হাদিস সংগ্রহ ইসলামী ইতিহাস সততা দুনিয়াবিমুখতা নবীজির পরের প্রজন্ম ইসলামী নীতি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

তাবেইদের জীবনযাপন: নবীজির পরের প্রজন্মের আদর্শ
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


তাবেইদের জীবনযাপন: নবীজির পরের প্রজন্মের আদর্শ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
তাবেইরা, নবী মুহাম্মদ (সা.)র সরাসরি সান্নিধ্য না পেলে‑ও সাহাবিদের জীবনদর্শনকে আত্মস্থ করে, ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য যুগ গড়ে তুলেছেন। নবীজির হাদিস ও সুন্নত সংগ্রহের অদম্য তাগিদে তারা মরুভূমি পার হয়ে, মদিনা, মক্কা, কুফা, বসরা ও সিরিয়ার সাহাবিদের ঘরে ঘরে ঘুরে হাদিসের জ্ঞানভান্ডার গড়ে তোলেন। মদিনার তাবেই সাইদ ইবনুল মুসাইয়িব (রহ.) একবার বলেন, “একটি হাদিস সংগ্রহের জন্য আমি দিনরাত অবিরাম সফর করেছি।” তার এই অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং নিখুঁত স্মৃতিশক্তি আজকের ইসলামী জ্ঞানের ভিত্তি হয়ে আছে। ইস্লামিক সাম্রাজ্য রোম থেকে পারস্য পর্যন্ত বিস্তৃত থাকলেও তাবেইরা জাগতিক সম্পদ থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। তারা সরল খাবার খান, সাদামাটা পোশাক পরেন এবং সম্পদ গরিবদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তাবেই হাসান বসরি (রহ.) বর্ণনা করেন, “বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ৭০ জন সাহাবির সাক্ষাৎ পেয়েছি; যদি তোমরা তাঁদের দেখো, তবে তাঁদের পাগল ভাববে; আর যদি তাঁরা তোমাদের দুনিয়াপ্রীতি দেখতেন, তবে বলতেন—এদের পরকালে কোনো অংশ নেই।” রাতের নামাজে তারা আল্লাহর সামনে কান্নাকাটি করে, দিনব্যাপী কর্মব্যস্ত থাকলেও রাতের একান্ত সন্ন্যাসে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পান। উরওয়া ইবনে জুবায়ের (রহ.) অসুস্থ হয়ে পা কেটে ফেলতে না চাওয়া পর্যন্ত, “আমি যখন নামাজে দাঁড়াব, তখন তোমরা আমার পা কেটে ফেলো, আমি টেরো পাব না”—এই দৃঢ়তা তাবেইদের ইবাদতের মূর্ত প্রতীক। তাবেইদের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল হালাল রিজিকের অনুসরণ। তারা ব্যবসা-ব্যাপারেও সততার উদাহরণ স্থাপন করে, সন্দেহের মুহূর্তে বড়ো ব্যবসা ত্যাগ করত। উদাহরণস্বরূপ তাবেই মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহ.) ৪০ হাজার দিরহামের তেল ক্রয় করে, তেল পাত্রে ইঁদুরের দাগ দেখলে পুরো তেল মাটিতে ফেলে দেন, ফলে আর্থিক ক্ষতি হলেও নীতি থেকে বিচ্যুত হননি। তাবেইদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিনয়ও তাদের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবিদের পিতার মতো সম্মান করা হতো, মতবিরোধে শিষ্টাচার কখনো লঙ্ঘন করা হতো না। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবদুর রহমান আওজায়ি (রহ.)র মধ্যে ফিকহি মতভেদ থাকলেও তারা একে অপরের প্রতি গভীর সম্মান বজায় রেখেছেন। এইসব গুণাবলি আজকের মুসলিম সমাজকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সম্পদ ও ক্ষমতার শীর্ষে বসে থেকেও হৃদয়কে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত রাখা সম্ভব। তাবেইদের নীতি, সততা ও জ্ঞানই ইসলামের সোনালী ঐতিহ্য গড়ে তুলেছে, যা আজও আমাদের পথপ্রদর্শক।

করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


যোগাযোগ : 09697716045