করাপশন নিউজ বিডি ২৪

রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১১তম শিকার: লকেটের মাধ্যমে শনাক্ত হল নিখোঁজ শিক্ষিকার দেহ

কক্সবাজারের উখিয়া ইনানীর টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে ১০ অক্টোবর রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার দেহাবশেষ ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মুক্তা, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় বসবাসকারী এবং ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা, দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ভোরে বান্ধবীরা সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হয়, আর মুক্তা রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের গর্জনে তিনি আটকে যান এবং তার পর থেকে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে মোট ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে; পূর্বে ১০ জনের দেহাবশেষ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছিল, তবে মুক্তার দেহ তখনো পাওয়া যায়নি। পরিবারে অনিশ্চয়তা বাড়ার পর, পুলিশ ধ্বংসস্তূপের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ, নালা ও পার্শ্ববর্তী ঝোপঝাড়ে পুনরায় তল্লাশি চালায়। কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর, দুপুরের দিকে মুক্তার গলায় থাকা লকেটের মাধ্যমে স্বামী দেওয়ান ফয়সালই তার দেহাবশেষ চিহ্নিত করেন। মুক্তার স্বজন, বিশেষত ফুফাতো ভাই হাসিবুল ইসলাম, উদ্ধারকাজে প্রশাসনের ধীরগতি ও তথ্যের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, প্রথম দফায় ১০টি মরদেহ পাওয়া গেলেও মুক্তার দেহ না পাওয়া যায়, এবং ডিএনএ ফলাফল প্রকাশের পরই ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়, যেখানে তারা দেহ না পেয়ে হতাশ হন। শেষ পর্যন্ত, লকেটের দৃশ্যই দেহের সঠিক শনাক্তকরণে সহায়তা করে। মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গের হিমঘর থেকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত ১০ জনের দেহ স্বজনদের হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এবং পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটির পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত ও সঠিক তল্লাশির আহ্বান এখনো শোনাচ্ছে।

রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১১তম শিকার: লকেটের মাধ্যমে শনাক্ত হল নিখোঁজ শিক্ষিকার দেহ