করাপশন নিউজ বিডি ২৪

চুয়েটে ক্লাসে ফিরে ছাত্র, ভিসি রুটিন দায়িত্বে অনীহা প্রকাশ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে এসেছে, তবে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বের জন্য কোনো শিক্ষকই স্বীকার করতে অনীহা প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার থেকে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক সময়সূচিতে ক্লাস-ল্যাবে উপস্থিত হয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রম স্বতঃস্ফূর্তভাবে চালু হয়েছে; কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দফতর ও প্রশাসনিক কাজে অংশগ্রহণ করেছেন। চুয়েটের বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ই‑মেইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আবু কাউছারকে রুটিন দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ করেন। তবে ডিন এই দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “উপাচার্য নিজ থেকে ই‑মেইল পাঠিয়েছেন, কিন্তু আমার অনুপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে নিজেকে বিপন্ন করে দায়িত্ব নিতে পারি না।” এর আগে গত শনিবার তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন ড. কাজী দেলোয়ার হোসেনকে রুটিন দায়িত্ব দিলে, তিনি শাটডাউন কর্মসূচি পালন করতে ব্যস্ত ছিলেন; ফলে তিনি একই দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পাননি। এরপর থেকে উপাচার্য পদে রুটিন দায়িত্ব নিতে কেউ রাজি হচ্ছেন না। প্রশ্নের মূল কারণ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া শাটডাউন ও অসহযোগ কর্মসূচি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাবেক উপাচার্য ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। ২১ সেপ্টেম্বর ড. সায়েমকে সরিয়ে ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিযুক্ত করা হয়, যা ব্যাপক বিরোধের সৃষ্টি করে। চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মুর্শেদ রাতুল বলেন, “আমাদের দাবি একটাই—ড. সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে আছি; এই দাবি আদায়ে আমরা একসাথে আছি।” শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক সামিউন বাসির যোগ করেন, “আমরা সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহারের দাবিতে অটল। সরকার দ্রুত সমাধান দেবে বলে আশা করি, তবে শিক্ষার্থীর বৃহত্তর স্বার্থের কথা মাথায় রেখে একাডেমিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।” স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, “দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে অচলাবস্থা চলবে, তবে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যোগ দিয়েছে এবং আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।” ইউজিসির গঠিত ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি ২৮ অক্টোবর সব অংশীদারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে, তবে এখনো কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। শিক্ষার কার্যক্রম কিছুটা স্বাভাবিক হলেও প্রশাসনিক ভবন এখনও তালাবদ্ধ, এবং রুটিন দায়িত্বের ঘাটতি চলমান। শাটডাউন শেষের দিকে অগ্রসর হলেও রুটিন দায়িত্বের প্রশ্ন সমাধান না হলে চুয়েটের শাসন কাঠামোতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে; তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দ্রুত সমঝোতা ও সমাধান প্রত্যাশিত।

চুয়েটে ক্লাসে ফিরে ছাত্র, ভিসি রুটিন দায়িত্বে অনীহা প্রকাশ