করাপশন নিউজ বিডি ২৪

হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে বাবার আর্থিক ও মানবিক অভিযোগে মিডিয়ায় তীব্র আলোচনা

ইসলামী ধর্মীয় বক্তা হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে তার বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহর আর্থিক ও মানবিক অভিযোগ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ ২৬ অক্টোবর রাতে একটি জাতীয় দৈনিকের ভিডিও সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেজা কণ্ঠে দাবি করেন, তাশরীফ তার অসুস্থ অবস্থায় কোনো আর্থিক সহায়তা দেননি এবং তার খোঁজখবরও রাখেন না। তিনি আরও বলেন, ছেলের পরামর্শে মসজিদের ইমামতি পদ ছেড়ে দিয়ে মাসিক ১০,০০০ টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি নিলেও তা কখনোই পরিশোধ করা হয়নি। বাবার কথায় তাশরীফের শিক্ষার দায়িত্বও উঠে আসে। হেদায়েতুল্লাহ জানান, তিনি ছেলেকে পড়িয়ে মাওলানা ও হাফেজের খিতাব দিয়েছেন, কিন্তু তাশরীফ তা অস্বীকার করে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, এক সময় তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ফলে ছেলেটি মানুষের কাছে ভিক্ষা করে টাকা সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়েছিল, যদিও তিনি নিজে ইমামতি থেকে প্রাপ্ত অল্প আয়ই ব্যবহার করতেন। বাবা তাশরীফের প্রতি তার অসন্তোষের প্রকাশ আরও বাড়িয়ে বলেন, "আমি যখন অসুস্থ ছিলাম, তোরে বললাম কিছু টাকা দে, তুই না দিলি, বললি জমি কিনব, তুই পারবে না। আমি তোর জন্য লালন-পালন করেছি, তুই টাকা দিতে পারবে না?" এমন অভিযোগের পর তাশরীফ ২৭ অক্টোবর রাতে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখে ফেলেন, "মিডিয়া চাইলে বাপকেও কিনতে পারে"। এই মন্তব্যই সামাজিক মিডিয়ায় নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাশরীফ সম্প্রতি টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষকের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে ছিলেন। এই পূর্ববর্তী বিতর্কের সঙ্গে বাবার অভিযোগের সমন্বয় তাকে আরও বেশি নজরে নিয়ে এসেছে। বিবাদটি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সামাজিক দায়িত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও তাশরীফের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে এই ঘটনার পরিণতি ধর্মীয় সমাজে আস্থা ও স্বচ্ছতার দাবিকে তীব্র করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে বাবার আর্থিক ও মানবিক অভিযোগে মিডিয়ায় তীব্র আলোচনা