করাপশন নিউজ বিডি ২৪

কাটছাঁট ছাড়া এআই‑সিনেমা ‘গ্যাপ’ পেল মুক্তি অনুমতি, বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ছবি

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে একটি মাইলফলক চিহ্নিত করেছে এআই‑চালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’। মাবরুর রশিদ বান্নাহের দিগন্তে উন্মোচিত এই প্রকল্পটি সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের কাছ থেকে কোনো কাটছাঁট ছাড়া প্রদর্শনের অনুমোদন পেয়ে রেকর্ড ভাঙেছে। বিশ্বের বহু চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে, আর এখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতারাও এই প্রবণতাকে গ্রহণ করে ‘গ্যাপ’ নামে দেশের প্রথম এআই‑পাওয়ার্ড সিনেমা তৈরি করেছে। পুরো চিত্রনাট্য, চরিত্র নকশা, অ্যানিমেশন, সাউন্ডট্র্যাক ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের বেশিরভাগ অংশই এআই টুলসের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্যরা চলচ্চিত্রের গুণগত মান ও নৈতিকতা যাচাই করে কোনো দৃশ্যকর্তন ছাড়াই ‘আনকাট’ ছাড়পত্র প্রদান করেছে। এটি শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি, কারণ এআই‑ভিত্তিক কন্টেন্টের ক্ষেত্রে এখনও স্পষ্ট নীতি ও মানদণ্ড গড়ে তুলতে সময় লাগছে। ‘গ্যাপ’‑এর কাস্টে রয়েছে এআই ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট আর্ক শিহাব, পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ, রিজভী রিজু, সিনথিয়া ইয়াসমিন নুপুর, মিষ্টি ঘোষ, মোমেনা চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম রাফি, জাহাঙ্গীর আলম সহ আরও বহু প্রতিভাবান শিল্পী। এআই‑সৃষ্ট চরিত্রের সঙ্গে মানব অভিনয়কে মিশ্রিত করে এক অনন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি করা হয়েছে। চলচ্চিত্রের পরিচালক বান্নাহ বলেন, “‘গ্যাপ’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি সাহসী পরীক্ষা। যখন আমরা সম্পূর্ণ এআই‑পাওয়ার্ড একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিই, তখন অনেকেই বিষয়টিকে অসম্ভব ভেবেছিলেন। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি, আন্তর্জাতিক মানের এআই টুলস ব্যবহার করে প্রতিটি ফ্রেম নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে কোনো দৃশ্যকর্তন ছাড়া ‘আনকাট’ ছাড়পত্র পাওয়া আমাদের জন্য এক বিশাল স্বীকৃতি, যা প্রমাণ করে যে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কনটেন্টও দর্শকের মন ছুঁতে পারে।” ‘গ্যাপ’ প্রযোজনা করেছেন আকবর হায়দার মুন্না। চলচ্চিত্রটি ৩১ অক্টোবর ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হবে, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এআই‑চালিত বাংলা সিনেমার প্রথম প্রকাশের দিক নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এআই‑নির্ভর নির্মাণপ্রযুক্তির এই নতুন উদাহরণ দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রযুক্তি‑চালিত সৃজনশীলতা ও কম বাজেটের মধ্যে বিশ্বমানের কাজের সম্ভাবনা উন্মোচন করবে। তরুণ নির্মাতাদের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণা এবং ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময়, প্রযুক্তি‑সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রের পথ প্রশস্ত করবে।

কাটছাঁট ছাড়া এআই‑সিনেমা ‘গ্যাপ’ পেল মুক্তি অনুমতি, বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ছবি