ট্রাম্পের ইরান‑যুদ্ধের দাবি: যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেনি, ক্ষেপণাস্ত্র কমে গেছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ নভেম্বর ওহাইওর চিলিকোথি শহরে নির্বাচনী সমাবেশে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সূচনা করেনি বলে দাবি করেন।
ট্রাম্পের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং দেশের ড্রোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে উৎপাদন সংকটে পড়েছে। তিনি এ কথা বলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাসের প্রমাণ উপস্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে ন্যায়সঙ্গত করার চেষ্টা করেছেন।
তবে তথ্যসূত্রের বিশ্লেষণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, যা ওমানের মধ্যস্থতায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় ঘটে। অর্থাৎ, কূটনৈতিক আলোচনার চলাকালীনই সামরিক হস্তক্ষেপ করা হয়।
এছাড়াও, গত বছরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক সুবিধায় আক্রমণ চালিয়ে একই সময়ে আলোচনার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছিল। এই ধারাবাহিক সামরিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাবও উপেক্ষা করা যায় না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া সামরিক সিদ্ধান্তকে তুলে ধরে নিজের নিরাপত্তা নীতি ও নেতৃত্বের রেকর্ডকে জোর দিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চান।
উপসংহারে, ট্রাম্পের ইরান‑সংঘাতের ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে সমালোচনা পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র‑ইরান‑ইসরায়েল সম্পর্কের জটিলতা নতুনভাবে প্রকাশ করেছে।
তথ্যসূত্র: আল‑জাজিরা, বিডি প্রতিদিন/কেএ