শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পরীক্ষার বর্জন ও ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছাত্ররা মঙ্গলবার একমত হয়ে সব ধরনের পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জন এবং প্রতিদিন বেলা ১১টার পরে ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভার শেষে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে বলেছে, পরবর্তী কোনো ঘোষণার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষা না নেওয়া হবে এবং বেলা ১১টার পরের সব ক্লাসে উপস্থিত হবে না।
এটি পুরোনো গবেষণার মাঠের পুনরুদ্ধারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ছাত্রবৃন্দ সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিরোধে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে আসছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি স্পষ্ট: গবেষণার জন্য ব্যবহৃত পুরোনো মাঠটি সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফেরত দিতে হবে। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে।
এদিকে, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের উদ্যোগও বাধার মুখে পড়েছে। গত বুধবার ছাত্ররা ওই মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার স্টল ভাঙচুর করে প্রতিবাদ করেছে।
শিক্ষার্থীরা যুক্তি দেয়, বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ওই মাঠটি তাদেরই, যেখানে কৃষি গবেষণার কাজ পরিচালিত হয়। যদি সচিবালয় সেখানে স্থাপিত হয়, তবে গবেষণার স্থান হারিয়ে যাবে এবং কৃষি গবেষণার কার্যক্রমে গুরুতর ক্ষতি হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সরকারি দপ্তর বসলে নানা ধরনের সমস্যার সম্ভাবনা বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
বৈধ প্রতিবাদ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্রবৃন্দ তাদের দাবির স্বীকৃতি চায়, এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে।