করাপশন নিউজ বিডি ২৪

শাহিনের মায়ের কান্না: ৫.৫ লাখ ঋণ, ফলের টাকা, আর আগুনে পুড়ে গেছেন ছেলে

শাহিনের মা নার্গিস বেগম রিয়াদের সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করা পুত্রের শোকময় স্মৃতিতে কান্না ও আহারজীবন প্রকাশ করেছেন। তিনি বললেন, "শাহিন বলত ‘বাবা, আমি ফল কিনে খেতে চাই, টাকা পাঠাও’। মা ১২ তারিখে টাকা পাঠাবো, ফল কিনে খাইবো—এ কথার মাঝেই তার ছেলেটা আগুনে পুড়ে মরে গেল। আমার বুকের ধনটা আমাকে রেখে চলে গেল, আমি একা হয়ে গেছি, কীভাবে বাঁচব এখন?"  শাহিনের নিথর দেহ আজ (৩১ অক্টোবর) নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ এলাকায় তার বাড়িতে পৌঁছে, যেখানে মা নার্গিস বেগম এবং আত্মীয়স্বজন শোকের স্রোতে ডুবে আছেন। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এক নজর দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন।  শাহিন, নওগাঁর পার নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা, এ বছরের এপ্রিল মাসে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে পাড়ি জমালেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী, ছয় বছরের ছেলে, আট মাসের কন্যা এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সের মা। বিদেশে পাড়ি জমার পাঁচ মাস পর, ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে তিনি নিহত হন।  শাহিনের মামি নিলুফা ইয়াসমিন জানান, "শাহিনের বাবা চার বছর বয়সে মারা গেছেন, ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্টে বড় হয়েছেন। বিদেশে ভালো টাকা উপার্জনের স্বপ্নে বিয়ের পর ঋণ নিয়ে গেছেন। মারা যাওয়ার তিন দিন আগে তিনি প্রথম টাকা পাঠাতে চেয়েছিলেন—৩২ হাজার টাকা, যার মধ্যে ২০ হাজার কিস্তি পরিশোধের জন্য, বাকি টাকা পরিবারের প্রয়োজনের জন্য। তবুও আগুনে তার ছেলেটি মারা গেল।"  মামা আব্দুস সালামও শোক প্রকাশ করে সরকারের প্রতি সুনজর ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "শাহিন ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী ছিলেন। তার বাবা মারা যাওয়ার পর আমি তার বোনকে অনেক কষ্টে সহ্য করতে দেখেছি। তিনি ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন, টাকা পাঠাতে শুরু করতেই মৃত্যুবরণ করেন। এখন পুরো পরিবার একা, সরকার যেন দ্রুত সাহায্য করে।"  নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, মৃতদেহগুলো বিনা খরচে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রশাসন থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।  সৌদি আরবের রিয়াদের সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জনের পরিবার নওগাঁ জেলায়। ৯১ আগস্ট ২৭ তারিখে প্রথম ৯ জনের দেহ দেশে পৌঁছায়, এবং আজ (৩১ অক্টোবর) বাকি ৭ জনের দেহ দেশে পৌঁছেছে। নওগাঁর শহীদদের মধ্যে পার নওগাঁ এলাকার শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামানিক, মাধবপুরের মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলী অন্তর্ভুক্ত।

শাহিনের মায়ের কান্না: ৫.৫ লাখ ঋণ, ফলের টাকা, আর আগুনে পুড়ে গেছেন ছেলে