<
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নিউজিল্যান্ডে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে জোটের পথে দুই প্রধান দল

নিউজিল্যান্ডের ২০২৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ, ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রধান দুই দল—ন্যাশনাল পার্টি ও লেবার পার্টি—জোট আলোচনার পথে। প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পরই দুই দলের নেতারা সমঝোতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যদিও চূড়ান্ত ফলাফল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে বাকি। প্রাথমিক গণনায় প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের মধ্য‑ডানপন্থী ন্যাশনাল পার্টি সর্বোচ্চ ৪২টি আসন অর্জন করেছে, তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১৯টি আসন কম। ন্যাশনাল পার্টি যদি তার জোট সঙ্গী অ্যাক্ট পার্টি (১৩টি) ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি (১২টি) এর আসন যুক্ত করে, তবে বামপন্থী জোটের তুলনায় সামান্য অগ্রগতি করতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণ সমঝোতার ওপর নির্ভরশীল। বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্সের দল ৩৬টি আসন পেয়েছে। হিপকিন্স এখনও পরাজয় স্বীকার করেননি এবং উল্লেখ করেছেন, "পরবর্তী সরকার কী রকম হবে তা এখনই বলা কঠিন; বিষয়টি পরিষ্কার হতে আরও কিছু সময় লাগবে।" তিনি জোটের প্রয়োজনীয়তা ও সকল পার্টির একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যান্য পার্টিগুলোর ফলাফলও উল্লেখযোগ্য: গ্রিন পার্টি ১৬টি, অ্যাক্ট পার্টি ১৩টি, নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি ১২টি, অপারচুনিটি পার্টি ৭টি এবং তে পাতি মাওরি পার্টি ৫টি আসন পেয়েছে। ভোটের ৯৯% পর্যন্ত গণনা শেষ হওয়ায় ন্যাশনাল ও লেবার পার্টির মধ্যে আসনের পার্থক্য খুবই কম। নিউজিল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন ২৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করবে। লাক্সন, যিনি জোট আলোচনার আগে প্রতিপক্ষ হিপকিন্সকে কঠোর লড়াইয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন, উল্লেখ করেছেন, "চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক না কেন, আপনারা সকলেই গর্বের কারণ।" তিনি আরও জানিয়েছেন, চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত তার সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে কাজ করবে। নিউজিল্যান্ডে মিক্সড‑মেম্বার প্রোপোরশনাল (এমএমপি) পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রতিটি ভোটার দুটি ভোট দেন—একটি স্থানীয় প্রতিনিধির জন্য এবং অন্যটি পছন্দের পার্টির জন্য। এই ব্যবস্থার ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন, ফলে জোট সরকারই সাধারণ। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল ও জোট আলোচনার পরেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী সরকার কোন দল বা জোটের নেতৃত্বে গঠিত হবে।

নিউজিল্যান্ডে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে জোটের পথে দুই প্রধান দল