শেরপুরে বাস‑অটোরিকশা ধাক্কা, প্রবাসী জুয়েল মিয়া নিহত
শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কের হাওড়া‑খানবাড়ি এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৯ টার দিকে একটি বাস এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে ইরাকের কুর্দিস্তান থেকে ফিরে আসা প্রবাসী জুয়েল মিয়া (৪২) মৃত্যুবরণ করেন, আর নকলা পৌরসভার চারজন কর্মচারী আহত হন।
মৃত্যুর শিকার জুয়েল মিয়া নকলার বারমাইসা খিচা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাফিজ উদ্দিনের পুত্র ও দুই সন্তানের জনক। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কাজের পর ২০ দিন আগে দেশে ফিরে শেরপুরে কাজের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন, তবে শেরপুরে ফিরে যাওয়ার পথে তিনি এই ট্রাফিক দুর্ঘটনার শিকার হন।
আহতদের মধ্যে নকলা পৌরসভার হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ ফেরদৌসুর রহমান (৫০), হিসাব সহকারী আলমগীর হোসেন (৩২), শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও দুলাল মিয়া (৬০) অন্তর্ভুক্ত। ফেরদৌসুর রহমানকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আলমগীর হোসেন নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি, আর শফিকুল ইসলাম ও দুলাল মিয়া শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শেরপুর চেম্বার্স অব কমার্সের একটি বাস নকলার গন্তব্যে গিয়ে সিএনজি অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। অটোরিকশার যাত্রী জুয়েল মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন, আর বাসের যাত্রী ও অটোরিকশার অন্যান্য যাত্রীসহ মোট চারজন আহত হন। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নকলা পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল হাসান জানান, তিনি এবং দুইজন কর্মকর্তা বদলিজনিত কারণে শেরপুরে গিয়ে উপহার কেনার জন্য বাসে চড়ে গিয়েছিলেন। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা ঘটায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।
নজরদারী নিকট আত্মীয়ের কথায়, জুয়েল মিয়ার চাচাতো ভাই এরশাদ আলী জানান, তার ভাই প্রায় ১৪ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন এবং ২০ দিন আগে দেশে ফিরে শেরপুরে কাজের জন্য এসেছিলেন। দুর্ঘটনা ঘটার সময় তিনি বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন।
শেরপুর সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ জানান, রাত ৯ টার দিকে মমিন মেম্বারের বাড়ির সামনে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আহতদের জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।