করাপশন নিউজ বিডি ২৪

দুবাইয়ে ‘The sky held it, the earth remembered’ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের শিল্পীদের স্মৃতি ও পরিবর্তনের অনুসন্ধান

দুবাইয়ের ইশারা আর্ট ফাউন্ডেশন এবং হ্যান নেফকেন্স ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘The sky held it, the earth remembered’ শীর্ষক একটি ত্রিপক্ষীয় শিল্পপ্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তিনজন স্বতন্ত্র শিল্পী—শাহানা রাজানি, রোহিণী দেবাশের এবং সরকার প্রতীক—তাদের কাজের মাধ্যমে স্মৃতি, প্রকৃতি ও ইতিহাসের সংযোগ অনুসন্ধান করেছেন। প্রদর্শনীর মূল থিম হল পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের বস্তুগত চিহ্নগুলো কীভাবে মানব স্মৃতিতে সংরক্ষিত হয় এবং কীভাবে শিল্প সেগুলোকে দৃশ্যমান করে। কিউরেটরদের মতে, জল, মাটি ও মহাকাশের পরিবর্তনগুলো কখনো কখনো অদৃশ্য হয়ে যায়, আবার কখনো মানুষের চোখে ধরা না পড়া স্তরে লুকিয়ে থাকে। এই অদৃশ্যতা এবং স্মৃতির মধ্যে সেতু গড়ে তোলাই এই প্রদর্শনীর লক্ষ্য। শাহানা রাজানির কাজ ‘Lines That World a River’ তিনটি পর্দায় গঠিত একটি চলচ্চিত্র, যা ‘Four Acts of Recovery’ প্রকল্পের বিস্তৃত সংস্করণ। চলচ্চিত্রটি সিন্ধু বদ্বীপের বাঁধ ও ব্যারাজ নির্মাণে পানির নিচে ডুবে যাওয়া গ্রামগুলোকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় মানুষগুলো ছবি অঙ্কন করে হারিয়ে যাওয়া বাড়ি, নৌকা, খাল ও দরগা পুনরায় কল্পনা করেন, যা তাদের জন্য এক ধরনের স্মৃতি-স্মারক হয়ে দাঁড়ায়। রোহিণী দেবাশেরের ‘Latent Fields’ বিশাল রেশমি প্যানেলে সূর্যের কালো দাগ, সানস্পট ও অন্যান্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাকে চিত্রিত করেছে। তিনি অঙ্কন, অ্যাসিডে রসায়ন, ধোঁয়া-প্রিন্ট এবং ডিজিটাল প্রিন্টিংসহ নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে এমন দৃশ্য তৈরি করেছেন, যা মানব চোখে সরাসরি না দেখা ঘটনাগুলোকে শিল্পের মাধ্যমে দৃশ্যমান করে। সারকার প্রতীকের ‘Dhaka 1217’ সিরিজ ১৩৫টি সাদা-কালো ফটোগ্রাফে ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ঢাকার এক পাড়ার পরিবর্তনকে ধরা পড়েছে। নতুন নির্মাণ, রেলপথের বিস্তার এবং সবুজস্থানের হ্রাসের পাশাপাশি ছবিগুলোতে ছোটখাটো ব্যক্তিগত চিহ্ন—পড়ে থাকা চুল, পুরনো ছবি, ধুলোমাখা বই—ও অন্তর্ভুক্ত। এই সিরিজ শহরের দ্রুত পরিবর্তনের মানবিক দিককে উন্মোচিত করে। তিনজন শিল্পীর কাজের মধ্যে সংযোগকারী প্রশ্ন হল: পরিবর্তনের পর কোন চিহ্নগুলো রয়ে যায় এবং আমরা কীভাবে সেগুলোকে শনাক্ত করতে পারি? পানিতে ডুবে যাওয়া গ্রাম, বদলে যাওয়া শহরের পাড়া এবং অদৃশ্য মহাজাগতিক ঘটনাগুলো—সবই শিল্পের মাধ্যমে স্মৃতিতে সংরক্ষিত হয়। প্রদর্শনী দর্শকদেরকে এই চিহ্নগুলো পর্যবেক্ষণ, ব্যাখ্যা ও সংরক্ষণে অংশ নিতে আহ্বান জানায়, ফলে তারা নিজেই একটি স্মৃতি-আর্কাইভ গড়ে তোলার ভূমিকা পালন করে। ‘The sky held it, the earth remembered’ প্রথম নজরে পরিবেশগত অবক্ষয় ও প্রকৃতির ক্ষতি নিয়ে একটি প্রচলিত থিমের মতো মনে হতে পারে, তবে গভীরতর বিশ্লেষণে দেখা যায় এটি পরিবর্তনের পর কী টিকে থাকে, কী অদৃশ্য হয় এবং সেই পরিবর্তনকে কীভাবে উপলব্ধি করা যায়—এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজে দেয়। শিল্প এখানে কেবল বাস্তবতাকে উপস্থাপন নয়, হারিয়ে যাওয়া বাস্তবতাকে স্মৃতির মধ্যে বাঁচিয়ে রাখে, অদৃশ্য ইতিহাসের চিহ্ন পুনরুদ্ধার করে এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুন করে গঠন করে।

দুবাইয়ে ‘The sky held it, the earth remembered’ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের শিল্পীদের স্মৃতি ও পরিবর্তনের অনুসন্ধান