করাপশন নিউজ বিডি ২৪

বরফের ছোঁয়ায় পোরস ছোট হবে? বিজ্ঞান কী বলছে

সামাজিক মিডিয়ায় মুখে বরফ ঘষার ট্রেন্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবহারকারীরা দাবি করে যে নিয়মিত এই পদ্ধতি পোরসের আকার কমিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল ও টানটান করে তুলবে। তবে এই দাবির পেছনে কি সত্যিকারের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে, নাকি এটি কেবল এক সাময়িক ভিজুয়াল ইফেক্ট? চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বরফের ঠান্ডা প্রভাব ত্বকের রক্তনালিগুলোকে সাময়িকভাবে সংকুচিত করে। এর ফলে ফোলাভাব কমে এবং ত্বক টানটান দেখায়, যা পোরসকে ছোট দেখাতে সাহায্য করে। তবে এই পরিবর্তন কয়েক ঘণ্টা থেকে একদিনের মধ্যে ফিরে আসে; পোরসের স্থায়ী আকারে কোনো পরিবর্তন ঘটে না। পোরসের প্রকৃত গঠন ত্বকের গঠন, তেল উৎপাদন, বংশগত বৈশিষ্ট্য এবং বয়সের ওপর নির্ভরশীল। তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত তেল ও মৃত কোষ জমলে পোরস স্পষ্টভাবে দেখা যায়, আর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে কোলাজেনের হ্রাস পোরসকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। বরফ সরাসরি ত্বকে ঘষলে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব এবং শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘসময় বরফের সংস্পর্শে থাকলে কোল্ড বার্ন বা ঠান্ডাজনিত ক্ষতও হতে পারে। রোসেশিয়া বা অন্যান্য ত্বকের রোগে আক্রান্তদের জন্য বরফ ব্যবহার উপসর্গ বাড়াতে পারে, তাই সরাসরি বরফ ঘষা এড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ। ওপেন পোরসের যত্নের জন্য দৈনিক দু’বার মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার, অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত পণ্য এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শে রেটিনয়েড বা রেটিনল ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও অপরিহার্য। যদি ফোলা কমাতে বরফ ব্যবহার করতে চান, তবে বরফকে সরাসরি ত্বকে না রেখে নরম কাপড়ে মুড়ে অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন। কোনো অস্বস্তি, জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন। সারসংক্ষেপে, বরফের সাময়িক শীতল প্রভাব ত্বককে টানটান দেখাতে পারে, তবে পোরসের স্থায়ী সঙ্কোচন ঘটায় না। ত্বকের স্বাস্থ্য ও পোরসের দৃশ্যমানতা উন্নত করতে সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শই সর্বোত্তম উপায়।

বরফের ছোঁয়ায় পোরস ছোট হবে? বিজ্ঞান কী বলছে