গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর ঘটিত তিনজন সাঁওতালের হত্যাকাণ্ডের দশ বছর পার হওয়া সত্ত্বেও মামলাটি এখনো আদালতে শোনা হয়নি। সাঁওতাল নেতারা দাবি করেন, কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনও ক্ষতিপূরণ পাননি। শুক্রবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকায় ‘সাঁওতাল হত্যা দিবস’ উপলক্ষে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এই অভিযোগগুলো পুনরায় তুলে ধরেন। তারা জানান, ঘটনায় আহতদের মধ্যে বহুজন এখনও শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন; যথাযথ চিকিৎসার অভাবে কেউ পঙ্গু হয়ে গেছেন, আবার কেউ গুলির স্প্রিন্টার শারীরিকভাবে বহন করছেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, সরকার থেকে নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সাঁওতাল বসতি এলাকায় এখনো ভূমিদস্যুদের কার্যকলাপ চালু রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তদুপরি, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দেওয়াকে ন্যায়বিচারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিক্ষোভের সূচনা হয় জয়পুর গ্রামে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে। এরপর মাদারপুর ও জয়পুর থেকে কালো পতাকা, তীর-ধনুক, ব্যানার ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত ফেস্টুন নিয়ে একটি মিছিল গঠন করে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে সাহেবগঞ্জে সমাবেশে যোগ দেয়। এই মিছিলের আয়োজনের দায়িত্বে ছিল সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি। সমাবেশে ফিলিমন বাসক (কমিটির সভাপতি) প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা পালন করেন এবং সহ-অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিল, এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার রফিক আহমেদ সিরাজী, আদিবাসী নেত্রী বিচিত্রা তিরকি, গোলাম রব্বানী মুসা, খোকন সুইটেন মুরমু সহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। মামলার মূল ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়: ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর, গোবিন্দগঞ্জের মহিমগঞ্জে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা সাঁওতালদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন। এর মধ্যে মঙ্গল মারডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রম নিহত হন। বিবি-প্রতিদিন/এআইডি