খিটখিটে সহকর্মী দিবস: অফিসের গোমড়া মুখে হাসি‑হাসি
অফিসের গোমড়া মুখে বসে থাকা সহকর্মীদের জন্য একটি আলাদা দিন নির্ধারিত হয়েছে—‘ক্র্যাঙ্কি কো‑ওয়ার্কার্স ডে’। এই দিবসটি কাজের চাপ, এয়ার‑কন্ডিশনারের তাপমাত্রা অথবা দীর্ঘ মিটিংয়ের ফলে সৃষ্ট বিরক্তি‑বিলাপকে হাস্যরসের মাধ্যমে হালকা করার উদ্দেশ্যে উদযাপিত হয়।
‘ক্র্যাঙ্কি কো‑ওয়ার্কার্স ডে’ প্রথম চালু করেন ওয়েলক্যাট হলিডেজের প্রতিষ্ঠাতা রুথ ও থমাস রয়। থমাস রয়, যিনি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, কণ্ঠ‑অভিনয় এবং রেডিওতে সক্রিয়, কয়েক বছর ধরে এই দিবসটি বিভিন্ন দেশে উদযাপন করতে দেখেছেন।
খিটখিটে সহকর্মী দিবসের মূল লক্ষ্য কোনো ব্যক্তিকে অপমান করা নয়; বরং গোমড়া স্বভাবকে স্বীকৃতি দিয়ে, সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও হাস্য‑মজার পরিবেশ গড়ে তোলা। একই ধরণের মজার দিনগুলোতে রয়েছে ১৫ অক্টোবরের ‘ন্যাশনাল গ্রাউচ ডে’ এবং ফেব্রুয়ারির ‘ন্যাশনাল ডু‑আ‑গ্রাউচ‑আ‑ফেভার ডে’, যেখানে গোমড়া মুখে থাকা কারো জন্য ছোট্ট একটি উপকারের মাধ্যমে দিনটি উজ্জ্বল করা হয়।
অফিসের বাস্তব দৃশ্যেও এই ধরনের চরিত্রের উদাহরণ দেখা যায়। জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘দ্য অফিস’‑এর স্ট্যানলি হাডসন, ‘পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন’‑এর এপ্রিল লাডগেট এবং ‘দ্য অফিস’‑এর রন সুয়ানসনের রুক্ষ স্বভাবের নিক অফারম্যান—এই সবই গোমড়া সহকর্মীর মেজাজকে মিম, মন্তব্য বা ছোট্ট উপহারের মাধ্যমে হালকা করার প্রেরণা দেয়।
তবে সবসময় মুখ গোমড়া সহকর্মীকে খুশি করার চেষ্টা করা দরকারি নয়। কেউ যদি একা থাকতে চান, তাকে সেই সুযোগ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা এড়িয়ে চলা এবং নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়া অধিক শান্তিপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
দিবসের উদযাপনে রাগী বিড়ালের মিম, হালকা রসিকতা বা নিজের বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করা যেতে পারে, তবে লক্ষ্যভেদী রসিকতা এড়িয়ে চলা উচিত, যাতে কোনো ব্যক্তি অপমানিত না হয়।
অবশেষে, অফিসে প্রত্যেকের স্বভাব আলাদা—কেউ প্রাণখোলা, কেউ চুপচাপ, কেউ গম্ভীর। ‘ক্র্যাঙ্কি কো‑ওয়ার্কার্স ডে’ আমাদের শেখায় এই বৈচিত্র্যকে হাসি‑মজার দৃষ্টিতে দেখা এবং গোমড়া মুখে থাকা সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করার সময় নিজের মেজাজও সামলাতে হবে। আজ যদি আপনার অফিসে গোমড়া মুখের কেউ থাকে, তবে তাকে বিরক্ত না করে, মনেই একটি হাসি রাখুন; আর যদি নিজেরই মুখ গোমড়া দেখায়, তবে বুঝুন এই দিনটি আপনার জন্যই তৈরি।