<
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

মাঠই শ্রেণিকক্ষ: ঝিনাইদহে পার্টনার ফিল্ড স্কুলে কৃষক-শিক্ষার্থীদের নতুন দিগন্ত

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বানিয়াকান্দর গ্রামে কৃষি অফিসের উদ্যোগে চালু 'পার্টনার ফিল্ড স্কুল' মাঠকে শ্রেণিকক্ষ করে তুলেছে। এখানে কৃষক‑কৃষাণী, বিভিন্ন বয়সের প্রান্তিক কৃষি কর্মী এবং কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা হাতে‑কলমে আধুনিক কৃষি জ্ঞান অর্জন করছেন। উদ্যোগের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, বানিয়াকান্দর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহানারা খাতুন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রশিক্ষণের সময় প্রশ্ন‑উত্তর, আলোচনা এবং প্রয়োগমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, ভুল সংশোধন হয় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। শিক্ষার বিষয়বস্তু শুধুমাত্র ফসল উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়; পুষ্টি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ এবং কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশলও অন্তর্ভুক্ত। ফলে অংশগ্রহণকারীরা পরিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে সবজিবাগান গড়ে তুলছেন এবং সীমিত খরচে বেশি ফলন পেয়ে আয় বাড়াচ্ছেন। কৃষাণী বিথী খাতুন জানান, ‘প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার, বীজ ও ফসলের পরিচর্যা সম্পর্কে নতুন জ্ঞান পেয়েছি; সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করলে কম খরচে ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে।’ কৃষক রিপন হোসেন যোগ করেন, ‘পুষ্টি ও সবজি চাষের নতুন পদ্ধতি শিখে অল্প খরচে বেশি উৎপাদন করছি।’ শিক্ষার্থী নিশিতা বিশ্বাসও বলেন, ‘সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন ও মাটির স্বাস্থ্যের রক্ষণাবেক্ষণ শিখে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে এবং নিরাপদ ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।’ ঝিনাইদহের কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, ‘প্রান্তিক কৃষক‑কৃষাণীদের আধুনিক প্রযুক্তি, পুষ্টি ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে হাতে‑কলমে ধারণা দেওয়াই পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মূল লক্ষ্য। এভাবে তারা অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন জ্ঞান মিশিয়ে কম খরচে বেশি উৎপাদন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সক্ষম হচ্ছেন।’ মাঠের এই পাঠশালা দেখিয়ে দেয় যে উর্বর মাটি, উন্নত বীজ বা সেচই একা যথেষ্ট নয়; জ্ঞান ও দক্ষতা ছাড়া কৃষি উন্নয়ন অসম্ভব। আধুনিক জ্ঞান ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে চাষাবাদের ধরন বদলে যাচ্ছে, পুষ্টি ও সমৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা গড়ে উঠছে।

মাঠই শ্রেণিকক্ষ: ঝিনাইদহে পার্টনার ফিল্ড স্কুলে কৃষক-শিক্ষার্থীদের নতুন দিগন্ত