কৃষক কার্ডে স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া সতর্কতা, ফসল রক্ষায় নতুন সুরক্ষা
কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস পাঠানোর নতুন সেবা সরকার চালু করেছে। বৃষ্টি, তাপমাত্রা পরিবর্তন কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে আগেই সতর্কতা পেয়ে কৃষকরা চাষাবাদ, সেচ, সার প্রয়োগ ও ফসল সংগ্রহের পরিকল্পনা সঠিকভাবে সাজাতে পারবেন।
সাধারণ সময়ে প্রতি ছয় ঘন্টায় এবং দুর্যোগের সময়ে প্রয়োজন অনুসারে একাধিকবার এই পূর্বাভাস এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনস্থ কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) এই সেবা বাস্তবায়ন করবে, যা কৃষি তথ্য, পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আবহাওয়া তথ্যের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষি বীমা সহ মোট দশটি সেবা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই কার্ডের মাধ্যমে আনতে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কাজ চলছে; ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলায় ১,৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ২২ লাখের বেশি কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে ৯ লাখের বেশি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
১ অক্টোবরের দিন ৫৬ জেলা, ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়, যেখানে মোট ১,১০,১৬৫ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১,৪৭ জনকে কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হবে। পূর্বে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় ২০,৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয় এবং ২০,৪৮০ জনকে বছরে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সঠিক সময়ে আবহাওয়া তথ্য পাওয়া ফসলের পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা ও সার প্রয়োগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন সহজ হবে।
এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে পার্টনার প্রকল্প "প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ" গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।