জাপান বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাজারে জাপান নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানের শেয়ার ৩.২৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত চার বছরে সর্বোচ্চ। একই সময়ে দেশটি মোট ৩৪৩.৬৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক জাপানে রপ্তানি করেছে, মোট রপ্তানি ১,০৫৮ কোটি ডলারের মধ্যে।
জাপান বাজারে রপ্তানি শেয়ার তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও, সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাপানে রপ্তানি ছিল ১১৫ কোটি ডলার, ২০২৩-২৪‑এ ১০৯ কোটি ডলারে হ্রাস পায়, তবে ২০২৪-২৫‑এ ১১৯ কোটি ডলারে পুনরায় বৃদ্ধি পায়। ২০২৫-২৬‑এ আবার ১১৩ কোটি ডলারে নেমে আসে, ফলে মোট রপ্তানির শেয়ার ২.৯৩ শতাংশে নেমে যায়। তবে জুলাই‑সেপ্টেম্বর ২০২৬‑২৭ ত্রৈমাসিকে শেয়ার ৩.২৫ শতাংশে উঠে, রপ্তানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
জাপানের নিজস্ব পোশাক আমদানি প্রবণতাও রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র (আইটিসি)ের তথ্য অনুযায়ী, জাপান ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ২৪৯৬ কোটি ডলার পোশাক আমদানি করেছে; পরের বছর ৭.৩ শতাংশ কমে ২৩১৪ কোটি ডলার হয়। এরপর ২০২৪-২৫‑এ ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৩৯০ কোটি ডলার, এবং ২০২৫-২৬‑এ আরও ১.২ শতাংশ বাড়ে ২৪১৯ কোটি ডলারে। বর্তমান বছরের জুলাই‑আগস্টে জাপান একক ত্রৈমাসিকে ৪০৫ কোটি ডলার পোশাক আমদানি করেছে, যা বাজারের চাহিদা বজায় রাখার পাশাপাশি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস রপ্তানিকারকদের জন্য জাপান বাজারে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হলেও শেয়ার ওঠানামা করে, ফলে দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা নির্ধারণে চ্যালেঞ্জ থাকে। তবে চলতি ত্রৈমাসিকের শেয়ার বৃদ্ধি যদি স্থায়ী হয়, তবে জাপান বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হয়ে সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল উল্লেখ করেন, জাপানের রপ্তানি শেয়ার এবং মোট আমদানি প্রবণতা গার্মেন্টস শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক। রপ্তানি পরিমাণ ও বাজার শেয়ার উভয়ই বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি মূল্যায়ন করা দরকার। সামগ্রিকভাবে, জাপানের পোশাক আমদানি বাজারের সাম্প্রতিক উত্থান এবং বাংলাদেশের রপ্তানি শেয়ারের বৃদ্ধি নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে তা টেকসই করতে ধারাবাহিক রপ্তানি নিশ্চিত করা জরুরি।