<
করাপশন নিউজ বিডি ২৪
প্রকাশ : রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

করাচির রেস্তোরাঁয় রোবিয়া ও জোজো: খাবার পরিবেশনে প্রথম দেশীয় রোবট-ওয়েট্রেস

করাচির রেস্তোরাঁয় রোবিয়া ও জোজো: খাবার পরিবেশনে প্রথম দেশীয় রোবট-ওয়েট্রেস
করাচির রেস্তোরাঁয় রোবিয়া ও জোজো: খাবার পরিবেশনে প্রথম দেশীয় রোবট-ওয়েট্রেস
পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে একটি রেস্তোরাঁতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রোবট-ওয়েট্রেস রোবিয়া এবং তার সহকারী জোজো খাবার পরিবেশন করছে, যা স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসা জাগিয়েছে। করাচির ‘দ্য সিসিলিয়ান’ নামের, নিয়ন আলোয় সজ্জিত রেস্তোরাঁতে রোবিয়া ইলেকট্রনিক কণ্ঠে স্বাগত জানিয়ে বলে, “সিসিলিয়ানে স্বাগতম, আমার নাম রোবিয়া,” এবং তার লাল এলইডি চোখগুলো জ্বলে ওঠে। জোজো সহায়ক হিসেবে কাজ করে, দুজনেই টেবিলে খাবার পৌঁছে দেয়। দুটি রোবটের মাথা গোলাকার, সাদা এবং মুখে কালো ভিসর রয়েছে, যা মোটরসাইকেল হেলমেটের মতো দেখায়। আঞ্চলিক নারীদের ঐতিহ্যবাহী ওড়না ও দোপাট্টার অনুকরণে গলায় কালো শাল যুক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে প্রযুক্তির মিশ্রণকে তুলে ধরে। রোবটগুলোর সৃষ্টিকর্তা হলেন পাকিস্তানি প্রকৌশলী সৈয়দ ওসামা আজিজ, যিনি নিজের গবেষণাগারে স্থানীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সার্কিট বোর্ড তৈরি ও প্রোগ্রামিং করেন। আজিজের রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘কোবট’ এবং বিদেশি ইলেকট্রনিক উপাদানের সমন্বয়ে রোবিয়া ও জোজো গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “এখানে রোবট তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সহজে পাওয়া যায় না, তাই সংগ্রহে অনেক সময় লেগেছে।” রেস্তোরাঁতে রোবটগুলো খাবার টেবিলে রেখে দেয়, তবে ট্রে থেকে খাবার নামিয়ে নিতে গ্রাহকদেরই হয়। অন্যথায় রেস্তোরাঁ কর্মীরা সহায়তা করে। এই মিশ্র সেবা পদ্ধতি গ্রাহকদের রোবটের কাজের সঙ্গে পরিচিত করে, একই সঙ্গে মানব কর্মীর ভূমিকা বজায় রাখে। আজিজ ভবিষ্যতে রোবটগুলোকে আরও স্মার্ট করতে চান। তিনি ক্যামেরা-ভিত্তিক প্রযুক্তি ও ছবি শনাক্তকরণ যোগ করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে রোবট গ্রাহককে চেনে, পূর্বের অর্ডার স্মরণ করে এবং ব্যক্তিগত খাবারের সুপারিশ দিতে পারে। রোবিয়া ও জোজো রেস্তোরাঁতে উপস্থিতি গ্রাহকসংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ রোবটের কাজ দেখতে ভিড় জমায়, এমনকি শহরের দূরদূরান্তের দর্শকও রোবট দেখার জন্য আসেন। গ্রাহক আহমের জামির এএফপিকে মন্তব্য করেন, “রোবট নিজেই নিজের পরিচয় দেয় এবং অর্ডার করা খাবার সম্পর্কে জানায়, যা খুবই আকর্ষণীয়।” রেস্তোরাঁ কর্মী হেলেন জানান, “আমাদের ব্যবসা বেড়েছে, মানুষ অনেক দূর থেকে এখানে আসছে এবং প্রথমবার রোবট দেখার উত্তেজনা ভাগ করে নিচ্ছে।” সারসংক্ষেপে, করাচির ‘দ্য সিসিলিয়ান’ রেস্তোরাঁতে রোবিয়া ও জোজোর সফল কার্যক্রম পাকিস্তানে রোবোটিক্সের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আজিজের উদ্যোগ স্থানীয় প্রযুক্তি ও সেবা শিল্পের সমন্বয়কে উদাহরণস্বরূপ দেখিয়ে, ভবিষ্যতে রোবট-চালিত সেবা ক্ষেত্রের সম্ভাবনা প্রসারিত করতে পারে।

বিষয় : রোবট রেস্তোরাঁ করাচি পাকিস্তান রোবিয়া জোজো রোবোটিক্স প্রযুক্তি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

করাচির রেস্তোরাঁয় রোবিয়া ও জোজো: খাবার পরিবেশনে প্রথম দেশীয় রোবট-ওয়েট্রেস
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


করাচির রেস্তোরাঁয় রোবিয়া ও জোজো: খাবার পরিবেশনে প্রথম দেশীয় রোবট-ওয়েট্রেস

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে একটি রেস্তোরাঁতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রোবট-ওয়েট্রেস রোবিয়া এবং তার সহকারী জোজো খাবার পরিবেশন করছে, যা স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসা জাগিয়েছে। করাচির ‘দ্য সিসিলিয়ান’ নামের, নিয়ন আলোয় সজ্জিত রেস্তোরাঁতে রোবিয়া ইলেকট্রনিক কণ্ঠে স্বাগত জানিয়ে বলে, “সিসিলিয়ানে স্বাগতম, আমার নাম রোবিয়া,” এবং তার লাল এলইডি চোখগুলো জ্বলে ওঠে। জোজো সহায়ক হিসেবে কাজ করে, দুজনেই টেবিলে খাবার পৌঁছে দেয়। দুটি রোবটের মাথা গোলাকার, সাদা এবং মুখে কালো ভিসর রয়েছে, যা মোটরসাইকেল হেলমেটের মতো দেখায়। আঞ্চলিক নারীদের ঐতিহ্যবাহী ওড়না ও দোপাট্টার অনুকরণে গলায় কালো শাল যুক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে প্রযুক্তির মিশ্রণকে তুলে ধরে। রোবটগুলোর সৃষ্টিকর্তা হলেন পাকিস্তানি প্রকৌশলী সৈয়দ ওসামা আজিজ, যিনি নিজের গবেষণাগারে স্থানীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সার্কিট বোর্ড তৈরি ও প্রোগ্রামিং করেন। আজিজের রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘কোবট’ এবং বিদেশি ইলেকট্রনিক উপাদানের সমন্বয়ে রোবিয়া ও জোজো গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “এখানে রোবট তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সহজে পাওয়া যায় না, তাই সংগ্রহে অনেক সময় লেগেছে।” রেস্তোরাঁতে রোবটগুলো খাবার টেবিলে রেখে দেয়, তবে ট্রে থেকে খাবার নামিয়ে নিতে গ্রাহকদেরই হয়। অন্যথায় রেস্তোরাঁ কর্মীরা সহায়তা করে। এই মিশ্র সেবা পদ্ধতি গ্রাহকদের রোবটের কাজের সঙ্গে পরিচিত করে, একই সঙ্গে মানব কর্মীর ভূমিকা বজায় রাখে। আজিজ ভবিষ্যতে রোবটগুলোকে আরও স্মার্ট করতে চান। তিনি ক্যামেরা-ভিত্তিক প্রযুক্তি ও ছবি শনাক্তকরণ যোগ করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে রোবট গ্রাহককে চেনে, পূর্বের অর্ডার স্মরণ করে এবং ব্যক্তিগত খাবারের সুপারিশ দিতে পারে। রোবিয়া ও জোজো রেস্তোরাঁতে উপস্থিতি গ্রাহকসংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ রোবটের কাজ দেখতে ভিড় জমায়, এমনকি শহরের দূরদূরান্তের দর্শকও রোবট দেখার জন্য আসেন। গ্রাহক আহমের জামির এএফপিকে মন্তব্য করেন, “রোবট নিজেই নিজের পরিচয় দেয় এবং অর্ডার করা খাবার সম্পর্কে জানায়, যা খুবই আকর্ষণীয়।” রেস্তোরাঁ কর্মী হেলেন জানান, “আমাদের ব্যবসা বেড়েছে, মানুষ অনেক দূর থেকে এখানে আসছে এবং প্রথমবার রোবট দেখার উত্তেজনা ভাগ করে নিচ্ছে।” সারসংক্ষেপে, করাচির ‘দ্য সিসিলিয়ান’ রেস্তোরাঁতে রোবিয়া ও জোজোর সফল কার্যক্রম পাকিস্তানে রোবোটিক্সের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আজিজের উদ্যোগ স্থানীয় প্রযুক্তি ও সেবা শিল্পের সমন্বয়কে উদাহরণস্বরূপ দেখিয়ে, ভবিষ্যতে রোবট-চালিত সেবা ক্ষেত্রের সম্ভাবনা প্রসারিত করতে পারে।

করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


যোগাযোগ : 09697716045