প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমানের ঘোষণায়: ২০২৪‑এর মতোই ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেবে জনগণ
প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমানের ঘোষণায়: ২০২৪‑এর মতোই ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেবে জনগণ
বাগেরহাটে কাটাখালী মোড়ে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমান শিল্পকারখানার ওপর হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার পেছনে কাজ করা ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে জনগণ যেভাবে তাদের কাজের জবাব দিয়েছিল, একই দৃঢ়তা ও ঐক্যবদ্ধতা ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা সব শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেতে‑খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই‑বোনদের সঙ্গে দাঁড়াব।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের সরকার দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, আর এই পরিকল্পনা ভেঙে ফেলা ষড়যন্ত্রকারীরা কোনো সুযোগ পাবে না।
বক্তব্যের সময় তিনি বাংলাদেশের শিল্পমিল ও কারখানাগুলোকে দেশের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে, এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে প্রথমে খেতে‑খাওয়া মানুষ, পরে শ্রমিক ও তাদের সন্তানরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মজুরি বোর্ডের গঠন ও দ্রুত কাজের সূচনা ঘোষণা করেন। মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দুই‑এক মাসের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শ্রমিকরা উন্নত জীবনের আশা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, বিগত ১৫‑১৬ বছরে যারা দেশের অবস্থার উন্নতি করতে পারেনি, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং অর্থ‑সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জনঅভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, বিশেষ করে মিল‑কারখানা ধ্বংসের পরিকল্পনা চালাচ্ছে।
শিল্পক্ষেত্রের পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে তরিক রহমান সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, বিএনপি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। সরকার এখন দেশি‑বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে এবং বন্ধ হয়ে থাকা মিল‑কারখানাগুলো পুনরায় চালু করবে। খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সকালেই প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (CRCC) এর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
পথসভা শেষে তিনি হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন‑২) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তরিক রহমানের মন্তব্য ও পরিকল্পনা দেশের শিল্প, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে, যা জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের দায়িত্বের মেলবন্ধনকে নির্দেশ করে।
সারসংক্ষেপে, প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমানের বার্তা স্পষ্ট: ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে, শ্রমিকদের মজুরি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পখাতের পুনর্গঠন করে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে হবে।
মতামত