বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ভূমিসেবায় হয়রানি শেষের লক্ষ্যে মো. আনিসুরের ত্বরিত পদক্ষেপ
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান সরকারি দপ্তরে প্রচলিত ভোগান্তি ও হয়রানি দূর করতে নতুন উদ্যোগ চালু করেছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমিসেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও মানুষ‑মুখী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ভূমি সহকারী কমিশনার হিসেবে ফরিদগঞ্জে যোগদান করা আনিসুরের প্রথম কর্মস্থলই এই এসিল্যান্ড। দপ্তরে নতুন কর্মী‑কর্মচারী নিয়োগের ফলে শূন্যস্থান পূরণে সমন্বয় গড়ে তুলতে এবং কার্যকর সেবা পদ্ধতি স্থাপন করতে তাকে তৎক্ষণাৎ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
দলিল‑বিভাগে তিনি বিশেষভাবে বিধবা, অনাথ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। রূপসা‑উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব বদরপুরে অবৈধ ড্রেজার অপসারণের জন্য ১২ অক্টোবর তারিখে একটি অভিযান পরিচালনা করেন, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। পরবর্তী দিনে, ১৮ অক্টোবর, তিনি ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও বাজার তদারকি ইত্যাদি বিষয়গুলোতে সমন্বয় সাধন করেন।
প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি আনিসুর যুবকদের জন্য খেলাধুলা ও বিতর্কের মাধ্যমে ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দিতে উদ্যোগী। তিনি উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃউপজেলা বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন করে শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, মুক্তবুদ্ধি ও সৃজনশীলতা বিকাশে উৎসাহিত করেন।
ভূমি অফিসে দালাল বা অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ রোধে তিনি সরাসরি কর্মকর্তা‑কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা চালু করেছেন। দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান এবং তার বাস্তবায়ন তদারকি করার দায়িত্বও তিনি নিজে নেন।
এরই মধ্যে বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী আব্দুল মান্নান এবং বিধবা রহিমা বেগমের মতো গ্রাহকরা সরাসরি অফিসে এসে সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘসূত্রতা বা অতিরিক্ত শর্তের মুখোমুখি না হয়ে তারা স্বল্প সময়ে ভূমি সেবা পেয়ে আনন্দিত হয়েছেন। তাদের পরিবারও আনিসুরের মানবিক ও আন্তরিক সেবার প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফরিদগঞ্জই তার প্রথম এসিল্যান্ড এবং এখানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা, শতভাগ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করতে চান। দপ্তরের ‘ভোগান্তি’ ধারণা বদলাতে এবং সেবাপ্রত্যাশীদের কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানকে মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেছেন।
মতামত