শেখ হাসিনা‑কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর চূড়ান্ত স্মারক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি‑১) চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি স্মারক পাঠানো হয়েছে, যাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নের ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই তথ্য প্রকাশ করেন। স্মারকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ আইসিটি মামলায় পলাতক আসামী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় দিয়েছে এবং সেই সম্পত্তি জুলাই ২০২৪‑এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও ভিক্টিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিক্রি করার আদেশ দিয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, যদি দণ্ডিত পলাতক আসামির সম্পত্তি সরকারী নিয়ন্ত্রণে না নেওয়া হয়, তবে তিনি যেকোনো সময় সম্পত্তি ভোগ, বিক্রয় বা হস্তান্তর করে রায়ের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারেন। তাই, স্মারকে অনতিবিলম্বে দণ্ডিত আসামির সকল স্থাবর‑অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করে তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এরপর, তালিকাভুক্ত সম্পত্তি ট্রাইব্যুনালের আদেশমতো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও ভিক্টিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিক্রি করে প্রয়োজনীয় বিলি বন্দোবস্ত করা হবে। একই ধরণের ব্যবস্থা নিতে আসাদুজ্জামান খান কামালের বিষয়েও অনুরূপ স্মারক পাঠানো হয়েছে।
এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার সংস্থার চাপ এবং দেশীয় আইনি প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এই স্মারক দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।