করাপশন নিউজ বিডি ২৪

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ তীব্রতা বাড়াল, অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাতের সম্ভাবনা

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ রূপ নেয়, ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের মেটেরিয়োলজি বিভাগ সতর্কতা জারি করেছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টা ২৩ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম‑উত্তর‑পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রবিবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তখন এর অবস্থান ছিল দক্ষিণ‑পশ্চিম ও পাশের পশ্চিম‑মধ্য বঙ্গোপসাগরে। দূতাবাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ‘মুরাসু’ সোমবার সকাল নাগাদ আরও তীব্র হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবং মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। সম্ভাব্য উপকূলীয় অঞ্চল হবে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী স্থান। বায়ু গতি ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি ঘণ্টা ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে, গরম বাতাসের গতি ঘণ্টা ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, একই সময়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১,৩৫০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১,২৯০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১,২৬০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১,২৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ‑পশ্চিমে অবস্থান করছিল। অধিদপ্তরের বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থায়ী বায়ু গতি ঘণ্টা ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ায় ঘণ্টা ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সমুদ্রের অবস্থা অত্যন্ত উত্তাল। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত থেকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেতে পরিবর্তন করা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবী নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি আসা থেকে বিরত থাকতে এবং সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। মুরাসু ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সতর্কতা বাড়বে, তাই জনগণকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ তীব্রতা বাড়াল, অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাতের সম্ভাবনা