গাজীপুরের পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ চালিয়ে, একটি পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার সকাল প্রায় সাড়ে আটটায় কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে জড়ো হয়ে অবরোধ শুরু করেন। মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন গাড়ির যাত্রীরা আটকে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রের মতে, শ্রমিকরা প্রথমে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করে, তবে বেতন বৃদ্ধির দাবি তুলে একে একে কারখানা ত্যাগ করে মহাসড়কে অবস্থান নেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং কয়েক হাজার কর্মী সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদে যুক্ত হন। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতি আরও তীব্র করে। অবস্থান নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়। অবরোধের ফলে মহাসড়ক কার্যত যানবাহনশূন্য হয়ে পড়ে এবং সড়কের ফাঁকা অংশে অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা যায়। শ্রমিকদের অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার ফলে সফিপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোট ১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যা শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধাক্কা দেয়। শ্রমিকদের দাবি স্পষ্ট: বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করা হোক। গাজীপুরের কোনাবাড়ি, মৌচাক, সফিপুরসহ বিভিন্ন শিল্পকেন্দ্রে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে প্রতিবাদ ও অবরোধের ধারাবাহিকতা দেখা যায়। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেও শ্রমিক আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, "রবিবার সকাল থেকে শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের অবরোধের কারণে পুরো মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।" তিনি পরিস্থিতি শীঘ্রই স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এই প্রতিবাদ গাজীপুরের পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন সংক্রান্ত সমস্যার দিকে দৃষ্টিপাত করে এবং সরকার ও শিল্প মালিকদের কাছ থেকে দ্রুত ও বাস্তবসম্মত সমাধানের আহ্বান জানায়।