করাপশন নিউজ বিডি ২৪

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দ্বিধা: উৎপাদনশীলতা বাড়লেও শক্তি‑পানি সংকটের হুমকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন তথ্য সংগ্রহ, শিক্ষা, চিকিৎসা, সংবাদমাধ্যম এবং ব্যবসা‑ব্যবস্থার সব স্তরে প্রবেশ করেছে। ছবি, লেখা, ভিডিও এবং জটিল সমস্যার সমাধান কয়েক সেকেন্ডে তৈরি করা সম্ভব, যা আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগত। এআইয়ের দ্রুততা ও স্বয়ংক্রিয়তা শ্রমের চাহিদা কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে, তবে এই স্বস্তির পেছনে নতুন ধরনের সংকটের সম্ভাবনা জমা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, শিক্ষার্থীর অ্যাসাইনমেন্ট, সাংবাদিকের খসড়া, দফতর কাজ এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সবখানে এআই ব্যবহার বাড়ছে। তবে যদি মানুষ বিশ্লেষণ, চিন্তা এবং সৃজনশীলতার বড় অংশই যন্ত্রের হাতে ছেড়ে দেয়, তবে মেধার চর্চা কমে যাবে। এছাড়া, এআই সেবা হঠাৎ বন্ধ হলে ১৫০ থেকে ২০০ কোটি মানুষ কীভাবে কাজ চালাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর মো. মোসাদ্দেক হোসেন কামাল ইনকিলাব জানান, এআই সিস্টেমের সার্ভারগুলো অধিক তাপ উৎপন্ন করে, যা শীতল করতে প্রচুর পানি বা তরল দরকার। এই শীতলীকরণ প্রক্রিয়া এবং ডেটা সেন্টারের বিশাল বিদ্যুৎ ব্যবহার পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ২০২৫ সালের ‘এনার্জি এন্ড এআই’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার ৯৪৫ টেরাওয়াট‑ঘণ্টা পর্যন্ত দ্বিগুণ হতে পারে। একই সময়ে পানির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।প্রতিটি এআই‑উৎপাদিত ছবির জন্য গড়ে ৩ ওয়াট বিদ্যুৎ এবং ৩‑৩০ মিলিলিটার পানি প্রয়োজন বলে অনুমান করা হয়েছে; ১০ লক্ষ ছবির ক্ষেত্রে মোট বিদ্যুৎ প্রায় ৩,০০০ কিলোওয়াট এবং পানির ব্যবহার ৩,০০০‑৩০,০০০ লিটার হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, একই কাজের জন্য মডেলভেদে বিদ্যুৎ ব্যবহার ৪৬ গুণ পর্যন্ত পার্থক্য থাকতে পারে, যা শক্তি দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।এআই‑এর স্রষ্টা জন ম্যাকার্থি একবার বলেছিলেন, এআই যখন মরণাস্ত্রেরূপে ব্যবহার হবে, তখন তা মানবজাতির জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্রযুক্তির সুবিধা-অসুবিধা উভয় দিকই স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা এবং নীতি নির্ধারকদের সঠিক পরিকল্পনা করা জরুরি। এআইকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা বাস্তবসম্মত নয়, তবে অন্ধ নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার, তথ্য যাচাই, মৌলিক দক্ষতা বজায় রাখা এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।সারসংক্ষেপে, এআই আমাদের সময় সাশ্রয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নতুন সম্ভাবনা এনে দিয়েছে, তবে এর অতিরিক্ত নির্ভরতা মেধা হ্রাস, সৃজনশীলতা সংকোচন এবং শক্তি‑পানি সংকটের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রযুক্তি ও মানব মেধার সমন্বয়, স্বচ্ছ নীতি এবং গ্রিন এনার্জি উদ্যোগই ভবিষ্যতে এআইকে টেকসই ও নিরাপদ রাখার মূল চাবিকাঠি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দ্বিধা: উৎপাদনশীলতা বাড়লেও শক্তি‑পানি সংকটের হুমকি