৫০০+ সরকারি-বেসরকারি সাইটে পিএইচপি ত্রুটি, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে
পিএইচপিতে নতুন একটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে দেশের পাঁচ শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ত্রুটি সেশন ব্যবস্থাপনা ও ফাইল আপলোডের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের বিশেষ ফিচারের সঙ্গে যুক্ত, যা হ্যাকারদের অননুমোদিত কমান্ড চালানোর সুযোগ দিতে পারে।বিজিডি ই‑গভ সার্ট, যা জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা, ত্রুটি শনাক্তের পর জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থার সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ সাইট এখনো পুরোনো এবং দুর্বল পিএইচপি সংস্করণ ব্যবহার করছে এবং সতর্কবার্তা সত্ত্বেও আপডেট করা হয়নি। ফলে দেশের ডিজিটাল সেবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।পিএইচপি, অর্থাৎ ‘হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর’, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটের ব্যাক‑এন্ডে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দুইটি সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা দল, ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং উইজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গত সপ্তাহে দুটি ত্রুটি প্রকাশ করে। ২১ অক্টোবর পিএইচপি ডেভেলপমেন্ট টিম জরুরি সিকিউরিটি আপডেট প্রকাশ করে দুটি গুরুতর ত্রুটি সংশোধন করে, আর ২৩ অক্টোবর আরেকটি ত্রুটি শনাক্তের কথা জানায়।নতুন ত্রুটি সেশন‑আপলোড প্রগ্রেস মেকানিজমের সঙ্গে যুক্ত, যা হ্যাকারদের সার্ভারে অননুমোদিত স্ক্রিপ্ট চালানোর সুযোগ দেয়। এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তথ্য চুরি, সিস্টেম দখল বা অন্যান্য সাইবার আক্রমণ করা সম্ভব।সার্টের সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নির্দেশে, প্রভাবিত সাইটগুলোকে পিএইচপির ‘সেশন আপলোড প্রগ্রেস’ ফিচার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে, সার্ভারের গুরুত্বপূর্ণ সেবা পুনরায় চালু করতে, সফটওয়্যারের সংস্করণ পরীক্ষা করতে এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তবে এখনো অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশ মেনে চলেনি। সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার প্রথম আলোকে জানান, "ওয়েবসাইটগুলো হালনাগাদ করা হলে ঝুঁকি কমে, তবে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সাইটের সংখ্যা উদ্বেগজনক।"বেসরকারি হোস্টিং কোম্পানির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা জুনায়েদ মিয়াজীও একই কথা বলেন, "অনেকেই সাইট সচল থাকাকেই নিরাপদ মনে করে, ফলে সফটওয়্যার হালনাগাদ ও ত্রুটি সংশোধনে গাফিলতি হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত আপডেট করা অত্যন্ত জরুরি।"সাইবার নিরাপত্তা তদারকি ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির উল্লেখ করেন, "একটি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের, তবে শুধু দায়িত্ব নির্ধারণই নয়, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তার মানদণ্ড নির্ধারণ ও তা অনুসরণ নিশ্চিত করার কাঠামো প্রয়োজন।"উপসংহারে, পিএইচপি ত্রুটি সংশোধনের জন্য দ্রুত আপডেট, সেশন‑আপলোড ফিচারের সাময়িক বন্ধ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা তদারকি অপরিহার্য। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীন বিজিডি ই‑গভ সার্টের ভূমিকা এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবং দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।