ফরিদপুরে যুবকের চোখ কেটে নেওয়ার গ্রেফতারহীন হিংসা, পুলিশ তদন্তে
ফরিদপুরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বাইটকুমারী বিলের নির্জন স্থানে রাতের অন্ধকারে এক যুবকের দু‑চোখ কেটে নেওয়ার শকিং ঘটনা স্থানীয় জনগণকে আতঙ্কিত করেছে। ৩৫ বছর বয়সী দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেনের ছেলে, হাত‑পা বাঁধা অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, রবিবার রাতের কোনো সময়ে ১০‑১২ জনের একটি দল দেলোয়ারকে ধরিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাইটকুমারী বিলের পাশে নিয়ে গিয়ে তার হাত‑পা বাঁধে। এরপর তাকে বেদনাদায়কভাবে প্রহার করে এক পর্যায়ে দু‑চোখ কেটে ফেলে, মৃত ভেবে বিলের পার্শ্বে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন ধানক্ষেতে রক্তাক্ত দেলোয়ারকে দেখে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
দেলোয়ার হোসেনের কথায়, "রাতে আমি প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হলাম, তখন ১০‑১২ জনের দল আমাকে মুখ বেঁধে বিলে নিয়ে যায় এবং বেদনাদায়কভাবে প্রহার করে, শেষে দু‑চোখ কেটে ফেলে"। তিনি আরও জানান, "আমি সম্প্রতি ওয়াইফাই টাওয়ার নিয়ে স্থানীয় শাহিন ও সবুজদের সঙ্গে ঝামেলা করছিলাম। গত মঙ্গলবার তারা আমাকে কুপিয়ে আহত করে, আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। তারা মামলাটি তোলার জন্য আমাকে হুমকি দেয়। আমি মামলা তোলার ইচ্ছা না করলে, রবিবার রাতে তারা আমাকে মুখ বেঁধে বিলে নিয়ে এসে নির্যাতন করে চোখ তুলে ফেলে"।
দেলোয়ার অভিযোগে উল্লেখিত অপরাধীরা হলেন স্থানীয় 'শাহিন', 'সবুজ' এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, যাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা গেলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম. বাহারুল আলম বাদশা জানান, দেলোয়ার এলাকায় চুরির অভিযোগে তাকে সন্দেহ করা হতো, তবে ঘটনায় জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় এখনো পরিষ্কার নয়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেলোয়ার হোসেন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তার পরিবার এবং স্থানীয় সমাজের শোকের স্রোতে পুলিশ দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে।