করাপশন নিউজ বিডি ২৪

বয়স বাড়ার সাথে স্মৃতিভ্রংশ: ডিমেনশিয়া না অন্য কোনো কারণ?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতির ছোটখাটো ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক, তবে বারবার ভুলে যাওয়া বা দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতায় হ্রাস দেখা দিলে তা ডিমেনশিয়া বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। স্বাভাবিক বয়সজনিত স্মৃতি হ্রাস এবং ডিমেনশিয়ার মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করা জরুরি। নাম বা ঠিকানা সাময়িকভাবে ভুলে যাওয়া এবং পরে স্মরণে ফিরে আসা স্বাভাবিক, তবে একই প্রশ্ন বারবার করা, পরিচিত রাস্তা হারিয়ে ফেলা বা স্বতঃস্ফূর্ত কাজ সম্পাদনে অসুবিধা দেখা দিলে তা তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে জানাতে হবে। ডিমেনশিয়া ছাড়াও ভিটামিন বি১২ ঘাটতি, থাইরয়েড হরমোনের অস্বাভাবিকতা, অপর্যাপ্ত ঘুম, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাসের কারণ হতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তির স্মৃতিভ্রংশ লক্ষণ দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো নির্ণয় না করে প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রক্তে ভিটামিন বি১২ ও থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা, ওষুধের তালিকা পর্যালোচনা, ঘুমের গুণগত মান এবং মানসিক অবস্থার পরিবর্তন যাচাই করা সাধারণ প্রাথমিক পদক্ষেপ। চিকিৎসক সহজ স্মৃতি পরীক্ষা দিয়ে সমস্যার মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেন। যদি স্মৃতিভ্রংশের মূল কারণ চিকিৎসাযোগ্য শারীরিক অবস্থা হয়, তবে সঠিক চিকিৎসা ও জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে স্মৃতি ও মনোযোগে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। তবে সব ধরনের ডিমেনশিয়া সম্পূর্ণ সেরে উঠবে এমন নয়; তাই লক্ষণ দেখা মাত্রই দ্রুত পরীক্ষা ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণই সর্বোত্তম। অপ্রত্যাশিতভাবে স্মৃতিভ্রংশের সঙ্গে মুখের এক দিক বেঁকে যাওয়া, দেহের এক পাশে দুর্বলতা বা কথায় অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি দেখা দিলে তা স্ট্রোকের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। এমন জরুরি অবস্থায় অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি। বয়সের কারণে ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক হলেও, সমস্যাকে উপেক্ষা না করে সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স বাড়ার সাথে স্মৃতিভ্রংশ: ডিমেনশিয়া না অন্য কোনো কারণ?