ডুয়েটের ক্যাম্পাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিশাল অনুষ্ঠান
গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করেছে। ক্যাম্পাস জুড়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হয়, যেখানে ইতিহাসের তাৎপর্য তুলে ধরা এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।
সকালবেলায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাত্মতা জাগিয়ে তোলে।
বিকালের প্রধান কার্যক্রম হিসেবে শহিদ আবু সাঈদ প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমান। উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন। সভায় গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ পারভেজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ইকবালের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বহুমাত্রিক মোড় হিসেবে উল্লেখ করেন। সেই দিন সিপাহি ও সাধারণ মানুষের ঐতিহাসিক সম্মিলন ঘটায়, যার ফলে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, আত্মনির্ভরশীলতা ও দেশ গঠনের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।
আলোচনা সভায় ডুয়েটের উপপরিচালক (যানবাহন) প্রকৌশলী মো. হারুন আল রশীদ, কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মো. আব্দুল কাদেরও মতামত প্রকাশ করেন। দিনব্যাপী উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, অফিস প্রধানসহ শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
এই অনুষ্ঠান ডুয়েটের শিক্ষার্থী ও কর্মীবৃন্দকে জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে সংযুক্ত করে একতাবদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঐতিহাসিক স্মৃতি রক্ষার গুরুত্বের প্রতি সচেতন করেছে।