রাতের ক্ষুধা কেন বাড়ে? হরমোন, খাবার ও অভ্যাসের গোপন সূত্র
রাতে ক্ষুধা বাড়ে, তবে তা শুধু পেটের খালি হওয়ার কারণে নয়; হরমোন, খাবারের গুণ, এবং দৈনন্দিন অভ্যাস মিলেমিশে মস্তিষ্কে আনন্দের সংকেত পাঠায়। পেট পূর্ণ থাকলেও মিষ্টি, চকলেট বা ভাজা‑পোড়া খাবারের প্রতি আকর্ষণ তীব্র হয়—এ কারণেই রাতের শেষভাগে ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা যায়।বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও বিপাক গবেষক জেমস বেটসের গবেষণায় দেখা গেছে, সন্ধ্যা ও রাতের দিকে ক্ষুধা উদ্রেককারী হরমোন ঘ্রেলিনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ঘ্রেলিন মস্তিষ্ককে খাবারের প্রয়োজনের সংকেত দেয়, ফলে পেট ভরা থাকলেও খাবারের প্রতি তৃষ্ণা জাগে।খাবারের গুণগত বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রোটিন, আংশিক ও পানি‑সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে; অপরদিকে চর্বি ও ক্যালোরি‑সমৃদ্ধ খাবার দ্রুত শক্তি সরবরাহের সংকেত দেয় এবং মস্তিষ্কে আনন্দের হরমোন ডোপামিনের মুক্তি বাড়ায়। লিডস বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডার ইউনিভার্সিটি অব মনকটনের পুষ্টিবিদ ড. ক্রিস্টিন বিউলিউয়ের মতে, সন্ধ্যা সময়ে চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিক, কারণ শরীর কম চর্বিযুক্ত বিকল্পের তুলনায় বেশি চর্বিযুক্ত খাবারকে পুরস্কার হিসেবে গণ্য করে।দীর্ঘদিনের অভ্যাসও তাড়া দেয়। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুজান হিগসের গবেষণায় দেখা যায়, টেলিভিশন দেখার সঙ্গে সঙ্গে নাশতা করার অভ্যাস মস্তিষ্কে ‘খাবার‑দেখা’ ট্রিগার তৈরি করে। ফলে টিভি চালু করলেই ফ্রিজের দরজা খুলে যায়, যদিও পেট পূর্ণ থাকে।রাতের খাবারের আকাঙ্ক্ষা ঘুমের মানের সঙ্গে জটিলভাবে যুক্ত। শর্করা‑সমৃদ্ধ সাদা পাউরুটি, বিস্কুট বা কেক রক্তের গ্লুকোজের দ্রুত ওঠানামা ঘটায়, যা ঘুমের গুণগত মানকে প্রভাবিত করে। অপরদিকে, ঘুমের ঘাটতি আবার ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয় এবং উচ্চ ক্যালোরি, চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি ঝোঁক বৃদ্ধি করে। তবে কোনটি প্রথমে আসে—ঘুমের ঘাটতি নাকি মিষ্টি খাবারের আকাঙ্ক্ষা—এটি এখনো গবেষণার বিষয়।সারসংক্ষেপে, রাতের খাবারের প্রতি আকর্ষণ একাধিক কারণের সমন্বয়: হরমোনের স্বাভাবিক পরিবর্তন, খাবারের পুষ্টিগত গঠন, এবং দীর্ঘদিনের আচরণগত অভ্যাস। পেট পূর্ণ থাকলেও মিষ্টি‑চকলেটের তৃষ্ণা স্বাভাবিক, তবে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকি কমাতে সুষম ডায়েট এবং পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব উপেক্ষা করা উচিত।