<
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

বিএনপি রিজভীর মন্তব্যে শিল্পকারখানায় অস্থিরতা, পলাতক আওয়ামী লীগই দায়ী

বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি)ের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউরিতে অনুষ্ঠিত র‍্যালি‑এর প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকারী আশ্বাসের পর অধিকাংশ প্রকৃত শ্রমিক আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে, এখন একটি গোষ্ঠী উসকানি দিয়ে শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন। বিএনপি চট্টগ্রাম মহানগর সংগঠন ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের উপলক্ষে র‍্যালি আয়োজন করেছিল। রিজভীর বক্তব্যের পর সমাবেশ কাজীর দেউরি থেকে র‍্যালি শুরু করে শহরের জামালখান পর্যন্ত অগ্রসর হয়ে শেষ হয়। র‍্যালিতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি সহ‑সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, চট্টগ্রাম‑১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানসহ বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন। রিজভী বলেন, সরকার শ্রমিকদের দাবির প্রতি আশ্বাস প্রদান করার পর প্রকৃত শ্রমিকদের বেশিরভাগই আন্দোলন থেকে সরে গেছেন; তবে কিছু গোষ্ঠী উসকানি দিয়ে পুলিশের গাড়ি ও বক্সে আগুন জ্বালিয়ে শিল্পখাতে অশান্তি সৃষ্টি করছে। এসব ঘটনার পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের ইন্ধন রয়েছে, এ কথায় তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ব্যাংক লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার ব্যাপকভাবে ঘটেছিল এবং সেই লুটপাটের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে দেশের মানুষ আর সেই অবনতিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চায় না। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে, তিনি যোগ করেন। রিজভী ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে আওয়ামী লীগ যে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল, তা স্মরণ করিয়ে দেন। পরে সিপাহি‑জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন গণতন্ত্রের সম্ভাবনা তৈরি হয়, যার ধারায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের গণ‑অভ্যুত্থান পর্যন্ত ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে এবং মানুষ আর গুম, খুন ও রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে নির্যাতনের শিকার হতে চায় না। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের পর জনগণ আস্থা রেখেছিল; এরপর স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। রিজভী উল্লেখ করেন, তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন করে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তি, মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়ত হোসেন বুলু ও ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রিজভীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা—গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও বহুদলীয় রাজনৈতিক অধিকার—এর ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান এবং শিল্পখাতে সৃষ্ট অশান্তির পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগের দায়িত্বারোপ। এই র‍্যালি বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান দৃঢ় করার পাশাপাশি শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।

বিএনপি রিজভীর মন্তব্যে শিল্পকারখানায় অস্থিরতা, পলাতক আওয়ামী লীগই দায়ী