ইনানীর গ্যাসের আগুন ১৫ দিন জ্বালিয়ে রাখবে পেট্রোবাংলা, তিন স্তরের নিরাপত্তা জোন গঠন
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় ইনানী গ্যাসের শিখা জ্বলে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ না কমা পর্যন্ত শিখা নেভানো যাবে না এবং গ্যাসের নির্গমনের পথও বন্ধ করা যাবে না বলে ১৫ দিন জ্বালিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্যাসের উচ্চচাপ জমে বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েবের নেতৃত্বে একটি টিম শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। একই সময়ে ১৪৪ ধারা অনুযায়ী ১৪৪টি আদেশ জারি করা হয়; আদেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল শিলা ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে, তবে গ্যাসের প্রবাহ বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকায় গ্যাসের সরাসরি নমুনা এখনও সংগ্রহ করা যায়নি। সংগ্রহ করা নমুনা বাপেক্সের পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে, ফলাফলের ভিত্তিতে গ্যাসের উপাদান ও প্রকৃতি নির্ধারিত হবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, পেট্রোবাংলা ও বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনা মেনে ১৫ দিন গ্যাসের প্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পর্যবেক্ষণের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। নিরাপত্তা বাড়াতে গ্যাস নির্গমনের কেন্দ্র থেকে ৫০ মিটার ব্যাসার্ধকে ‘রেড জোন’, ১০০ মিটারকে ‘নো ফায়ার জোন’ এবং ২০০ মিটারকে ‘অবজারভেশন জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা প্রশাসন শুক্রবার সকাল থেকে ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করে। এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বজায় থাকবে।
গত বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার কার্যালয়ে জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করা হয়। সভায় পেট্রোবাংলা পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. শোয়েব, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কক্সবাজার সহকারী কমিশনার, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কারিগরি দল অংশ নেন। সভার পর পেট্রোবাংলা পরিচালক স্বাক্ষরিত চিঠি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে পাঠিয়ে গ্যাসের শিখা নেভানো যাবে না, গ্যাসের প্রবাহ বজায় রাখতে হবে এবং উচ্চচাপের ঝুঁকি এড়াতে নিরাপত্তা জোনের কঠোর পালন নির্দেশ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের প্রবাহের পরিমাণ, গতিপ্রকৃতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি প্রবাহ ধীরে ধীরে কমে যায়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাস বন্ধ হতে পারে; অন্যথায়, অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হবে। রেড জোনে কোনো মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ, নো ফায়ার জোনে ধূমপান, লাইটার, দাহ্য বস্তু ব্যবহারসহ সব ধরণের অগ্নি উৎস নিষিদ্ধ, আর অবজারভেশন জোনে বাপেক্সের কারিগরি দল গ্যাসের নতুন নির্গমন আছে কিনা তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইনানী ছোট খাল ব্রিজ সংলগ্ন গ্যাস নির্গমনের স্থান থেকে ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে উখিয়া থানার ওসি ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের আদেশ দিয়েছেন।