হবিগঞ্জে ৪,২৯২ লিটার তেল চুরি: পাইপলাইন ছিদ্র, গোপন ট্যাংকে লুকানো
হবিগঞ্জের মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের কনডেনসেটবাহী পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪,২৯২ লিটার তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুই দিনব্যাপী একটি চক্র অবৈধ সংযোগ স্থাপন করে তেল চুরি করে, পরে তা মাটির নিচে তৈরি গোপন ট্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়।
গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) নিরাপত্তা কর্মীরা ৪ নভেম্বর রাত ১ টার দিকে ঢাকা‑সিলেট মহাসড়কের উত্তর নোয়াপাড়া এলাকার রতনপুর ডাক্তার বাড়ির সংলগ্ন স্থানে কনডেনসেট চুরির সন্দেহ পেয়ে তদন্ত শুরু করে।现场ে পাঁচ থেকে ছয়জন সন্দেহভাজনকে লক্ষ্য করে, তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে পরিদর্শনে পাইপলাইন ছিদ্রের মাধ্যমে হোসপাইপের মাধ্যমে কনডেনসেট বের করার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।
সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনকে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় এবং তিনি নিরাপত্তা কর্মীদের ঘটনাস্থলে প্রবেশে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মাধবপুর থানার উপপরিদর্শক সামসু উদ্দিন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে পুলিশের দল现场ে পৌঁছে, চুরিতে ব্যবহৃত ছয় ইঞ্চি ব্যাসের ক্ল্যাম্প, এক ইঞ্চি জিআই পাইপ, দুটি বলভালভসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে।
ইসলাম উদ্দিনের বাড়ির পুকুর ও আশপাশ থেকে তেল মজুদ করার জন্য ব্যবহৃত দুটি বড় পানির ট্যাংক এবং মাটির নিচে কনডেনসেট সংরক্ষণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি দুটি গোপন গর্ত বা ট্যাংকও উদ্ধার করা হয়।
জিটিসিএলের আশুগঞ্জ অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক (সিকিউরিটি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, এই চুরির মোট পরিমাণ প্রায় ৪,২৯২ লিটার এবং সংশ্লিষ্ট পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানাে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উপব্যবস্থাপক মো. জায়েদ হোসেনও উল্লেখ করেন, দুই দিনে এত বড় পরিমাণ তেল চুরি হওয়া অনন্য।
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি মাধবপুরের আদাঐর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায়ও জাতীয় গ্রিডলাইনের পাইপ ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনা ঘটেছিল, যা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে।
এই ঘটনার পর গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি পাইপলাইন নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।