<
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

ট্রাম্পের পরাজয় ও আন্তর্জাতিক নীতি: ইরান, ইসরায়েল, ইউক্রেনের সামনে কী পরিবর্তন?

মিডটার্ম মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিশাল পরাজয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ছাড়াও তার আন্তর্জাতিক নীতি প্রণালীর উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ বাড়লেও, পররাষ্ট্রনীতিতে তার হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়ে গেছে। ফলে তিনি সমঝোতার পথে হাঁটবেন নাকি কঠোর অবস্থান বজায় রাখবেন, তা এখন অনিশ্চিত। ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধের প্রভাবই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের প্রধান কারণ। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে তেহরান এই ফলাফলকে মার্কিন জনগণের যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের প্রকাশ হিসেবে দেখছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তবু দাবি করেন যে মার্কিন নির্বাচনের ফল দেশীয় নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না, যদিও তেহরান সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং কাতারের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক পদক্ষেপ বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ দেখছেন: সম্মানজনক সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা অথবা সামরিক অভিযানকে আরও তীব্র করা। আপাতত হরমুজ প্রণালির ভিত্তিতে অস্থায়ী সমঝোতার সম্ভাবনা বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইসরায়েলের ক্ষেত্রে, নির্বাচনের দিন ট্রাম্প ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেন। ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসীয় নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের জন্য উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। গাজা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল সমর্থন ইতিমধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছে; সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেনের মতে, মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্ক একটি যুগের শেষের পথে। ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আয়রন ডোমের মতো প্রতিরক্ষা প্রকল্প এবং অস্ত্র বিক্রয়েও বাধা আসতে পারে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যুদ্ধের খরচ বাড়ার কারণে এই ধরনের অভিযানের বিরোধিতা বাড়ছে। ইউক্রেনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের জয় নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বিশ্বাস করেন, ডেমোক্র্যাটরা ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে স্পষ্টভাবে ইচ্ছুক। তবু কিয়েভ ট্রাম্পের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারছে না; অস্ত্র, অর্থ ও গোয়েন্দা সহযোগিতার প্রয়োজন থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের ঝুঁকির কারণে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস পেলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা নিতে পারেন। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৮ সালের মার্কিন নির্বাচনের পূর্বে ওয়াশিংটনের নীতি পরিবর্তনের আগে মস্কো তার সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করতে চাবে। সিএনএন সূত্রে প্রকাশিত এই বিশ্লেষণটি দেখায়, ট্রাম্পের নির্বাচনী ব্যর্থতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নয়, ইরান, ইসরায়েল ও ইউক্রেনের সঙ্গে তার সম্পর্কেও নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে কংগ্রেসের ভূমিকা, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক পার্টনারদের কূটনৈতিক কৌশল একসাথে গঠন করবে পরবর্তী বছরের বৈশ্বিক নিরাপত্তা দৃশ্যপট।

ট্রাম্পের পরাজয় ও আন্তর্জাতিক নীতি: ইরান, ইসরায়েল, ইউক্রেনের সামনে কী পরিবর্তন?