এইচএসসি ফলাফলে ২২ বছরের সর্বনিম্ন পাসের হার, কারণগুলো কী?
বাংলাদেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ২০২৪ সালের এইচএসসি ফলাফল প্রকাশের পর, পাসের হার এবং জিপিএ‑৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। মোট ১০,৪৮,৫৩০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫,৪১,২৪৯ জনই উত্তীর্ণ হয়েছে, ফলে গড় পাসের হার ৫১.৬২ শতাংশে নেমে গেছে। গত বছর এই হার ৫৭.১২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫.৫৬ শতাংশ ছিল, অর্থাৎ এক বছরে অর্ধেকের বেশি পয়েন্ট হ্রাস ঘটেছে।
জিপিএ‑৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫,৯৪৮, যা পূর্ববছরের ৬৩,২১৯ থেকে ২৭,২৭১ কমে গেছে। ফলাফলে দেখা যায়, ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বাধ্যতামূলক বিষয়ের পাসের হার বিশেষভাবে নিচু। ঢাকা বোর্ডে ইংরেজি পাসের হার ৭৩.৬২ শতাংশ, তবে অন্য সব বোর্ডে এই হার ৫৪ থেকে ৬৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আইসিটি বিষয়েও সব বোর্ডে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে রয়ে গেছে।
বোর্ডভিত্তিক পাসের হার তুলনা করলে ঢাকা বোর্ড শীর্ষে ৬১.৮০ শতাংশের সঙ্গে রয়েছে, আর সর্বনিম্ন বরিশাল বোর্ডে ৪৪.৮৪ শতাংশ। রাজশাহী ৪৫.০৬, কুমিল্লা ৪৮.০৪, যশোর ৪৪.৯২, চট্টগ্রাম ৫২.০৭, সিলেট ৫০.৯০, দিনাজপুর ৪৫.৯৮ এবং ময়মনসিংহ ৫১.৪৪ শতাংশ রেকর্ড করেছে।
বিশ্লেষকরা ফলাফলকে প্রভাবিতকারী কারণ হিসেবে কঠোর মূল্যায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান মানের ঘাটতি, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের দুর্বল শিক্ষকশক্তি, কঠিন প্রশ্নপত্র এবং প্রশ্নপত্রে ভুল-ত্রুটি উল্লেখ করেছেন। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে অসংগতি পাওয়া গিয়েছে; পদার্থবিজ্ঞানের দুইটি প্রশ্নের জন্য সরকার পূর্ণ নম্বর প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়।
অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এক বা দুই বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ এক মাসের মধ্যে রাখা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এক বিষয়ে ফেল করা ২,৯৮,০৪০ এবং দুই বিষয়ে ফেল করা ১,২৪,৮৬৫ শিক্ষার্থী রয়েছে; মোট ৪,২২,৯০৫ জন এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য। পুনরায় পরীক্ষার তারিখ, ফি ও ফরম জমা সংক্রান্ত বিস্তারিত ৩ নভেম্বরের মধ্যে জানানো হবে।
শিক্ষা মন্ত্রী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফলাফলের পুনর্মূল্যায়ন ও সম্ভাব্য ত্রুটি যাচাইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। যশোরের সাবেক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আমিরুল আলম খান শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো বরাদ্দের পুনর্বিবেচনা এবং অপ্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণের সমালোচনা করে বলেছেন, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই ফলাফলগুলো দেশের পাবলিক পরীক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির দিকে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, এবং আগামী মাসে পুনরায় পরীক্ষার সূচি ও ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে উত্তীর্ণদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তি সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা চলছে।